শাকসু নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

শাকসু নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২১  
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৩  

নান নাটকীয়তার পর ২৮ বছরের বিরতিতে আগামী ২০ জানুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ কাটিয়ে ফের ভোটের গাড়ি চালুর পর ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের কাছের একটি সড়কে দেখা যায় ভোটারদের হাতে হাতে প্রার্থীদের পোস্টার ও কার্ড তুলে দিচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। 

প্রর্থীদের অনেককেই দেখা গেলো কেউ হাত মেলাচ্ছেন, কেউ প্রচারপত্র বিলি করছেন। ভিড়ের দিকে এগোতেই প্রচারপত্র ধরিয়ে এক প্রার্থী বলেন, ‘ভাই, কেমন আছেন? ভোট ও দোয়াপ্রত্যাশী।’

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। প্রচারণার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে আগামীকাল শনিবার রাত ১০টায় প্রচারণার সময় শেষ হচ্ছে। এ কারণে ভোটারদের কাছে অন্তত একবার হলেও পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা।

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে দুই–এক দিন প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা। কেউ প্রচারণার সময় এক দিন বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন।

এদিকে ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা ইশতেহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কেউ কেউ প্রচারপত্রে নিজেদের ইশতেহার লিখে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। পদকেন্দ্রিক কেউ কেউ ‘বিশেষ’ ইশতেহার ভোটারদের কাছে প্রকাশ করছেন। ভোটারদের কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন প্রার্থীরা। শিক্ষাসহ আবাসিক হলের মানোন্নয়ন, খেলাধুলার পরিসর বাড়ানো ও ছাত্রীদের জন্য নানা সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

শাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ এ বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন খুব কাছাকাছি। সুতরাং প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণায় প্রতিযোগিতা চলমান। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে মূল্যায়ন করা হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে নারী শিক্ষার্থী হুমায়রা জান্নাত বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আমরা এমন প্রার্থী প্রত্যাশা করি, যারা আমাদের পক্ষে কাজ করবেন, কথা বলবেন এবং যাদের আচরণ ও মনোভাব ইতিবাচক হবে।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শাকসুতে মোট ভোটার ৯ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি, জিএস ও এজিএস-সহ ১৮টি সম্পাদকীয় পদ এবং পাঁচটি সদস্য পদসহ মোট পদ ২৩টি। এতে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ডিবিটেক/এসডি/ইকে