খুলনার চার জেলার নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

খুলনার চার জেলার নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩১  

মাঠপর্যায়ে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগের চার জেলার নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রায় পাঁচশত উদ্যোক্তা অংশ নেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। 

সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের নিকট আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুসমন্বিতভাবে হস্তান্তর না হলে নাগরিকের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে সরকার সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করেছে। এসব আইন নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষের জন্যই নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে। 

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক আস্থা ছাড়া কোনো ডিজিটাল সেবা বা উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে যে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তা রক্ষা করা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আমানত। এই তথ্যের অপব্যবহার কিংবা সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, সরকার চায় নাগরিকরা যেন সরকারি সেবার জন্য একের পর এক দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার না হন। এজন্য সব সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার মাধ্যমে একটি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা হচ্ছে, যা সময়, খরচ ও শ্রমঘণ্টা সাশ্রয় করবে।

গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে ভবিষ্যতে আবার স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও উদ্যোক্তা-বান্ধব নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সংস্কারের পক্ষে সচেতন হতে হবে।

নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, বর্তমানে ১২টি মন্ত্রণালয় নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রায় এক হাজার সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা সব প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কেন্দ্রগুলো নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং উদ্যোক্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রশাসনিক সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহাঃ আব্দুর রফিক বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা সমাধানে এটুআই সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্র পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কেবল সেবা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সেবাপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে সেবার মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। 

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা নাগরিক সেবা কেন্দ্র পরিচালনা, সেবা প্রদানের মানদণ্ড অনুসরণ, নাগরিক সেবা দ্রুত ও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। 

আলোচনা শেষে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

 তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং খুলনা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাঃ আব্দুর রফিক, খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, সিনিয়র কনসালটেন্ট ও উপসচিব ফজলুল জাহিদ পাভেল, চিফ টেকনোলজি এডভাইজার মাসুদুর রহমান, হেড অব কমিউনিকেশন্স মোহাম্মদ সফিউল আযম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন। 

ডিবিটেক/এমজেইউ/ইকে