নির্বাচন ও গণভোটের তথ্যসেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩-এর মাধ্যমে তথ্য ও সেবা দিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেবাটি চালু হলে জাতীয় এই হেল্পলাইন নম্বরের আইভিআর মেনুতে ৯ চেপে নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন গ্রাহক।
আর এই সুবিধা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ কর্মশালা। কার্যক্রম নিয়ে
একসেস টু ইনোভেট- এটুআই এর আয়োজনে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহা: আব্দুর রফিক, এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোঃ রশিদুল মান্নাফ কবীর, ইসি'র যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুল হালিম খান এবং এটুআই-এর হেড অফ প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। এছাড়াও কর্মশালায় ইসি ও এটুআই-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩-এর এজেন্টদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
নির্বাচনকালীন তথ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, "নির্বাচন ও গণভোটের সময় নাগরিকদের জিজ্ঞাসা সাধারণত সময়-নির্ভর, প্রেক্ষাপটভিত্তিক ও সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই শুধু তথ্য থাকা যথেষ্ট নয়; যাচাইকৃত উৎসের ভিত্তিতে একই মানদণ্ডে নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা এজেন্টদের থাকতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য নাগরিক আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ইসি ও জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩-এর দায়িত্ব সুস্পষ্ট রেখে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।"
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা: আব্দুর রফিক বলেন, "অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো নাগরিকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া। নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটার তালিকা, ভোটদানের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, আচরণবিধি, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিভ্রান্তি, গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩ নাগরিকবান্ধব তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।"
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য করে এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মোঃ রশিদুল মান্নাফ কবীর বলেন, "নির্বাচনকালীন তথ্যসেবা দিতে হলে শুধু তথ্য নয়; বরং এজেন্টদের বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, আপডেটেড তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক যোগাযোগ কৌশলে পারদর্শিতা থাকা অপরিহার্য।"
কর্মশালায় ইসি'র যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুল হালিম খান নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত করণীয়-বর্জনীয়, আচরণবিধি এবং নাগরিকদের সাধারণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজ ভাষায় সঠিক উত্তর প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া এটুআই-এর হেড অফ প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, "এই কর্মশালার মাধ্যমে ৩৩৩-এর এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন ও ভোট সংক্রান্ত তথ্যসেবা আরও দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রদান করতে সক্ষম হবেন; ফলে নাগরিকদের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়বে এবং বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমবে।"
অনুষ্ঠানে জানানো হয়. এই সেবার আওতায় ভোটার তার নিজের তথ্য, ভোট প্রদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং তা খোঁজার উপায়, প্রার্থী ও তার পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদান সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও সেবা, কোনো এলাকায় জরুরি অবস্থা বা বিশেষ নির্দেশনা জারি আছে কি না, এসবসহ জরুরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপ 'Postal Vote BD' এবং Smart Election Management BD সম্পর্কে তথ্য প্রদান এই সেবার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ডিবিটেক/আরআই/আইএম







