‘পুরো ডিজিটাল না হওয়ায় এনবিআরে মিলে না প্রয়োজনীয় তথ্য’

‘পুরো ডিজিটাল  না হওয়ায় এনবিআরে মিলে না প্রয়োজনীয় তথ্য’
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪১  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ই-টিডিএস সিস্টেম থেকে এ-চালান সিস্টেমে (ACS) বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের কর ও ভ্যাট পরিশোধের নতুন সেবা চালু করেছে।  ফলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে না গিয়েও যেকোনো স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা বিকাশের মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত কর পরিশোধ করতে পারবেন করদাতারা। এতে কর আদায় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করবে বলে আশা করা হচ্ছে

সেই প্রত্যাশায় ১১ জানুয়ারি (রবিবার) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ এনবিআর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘e-TDS System হতে A-Challan System (ACS)-এ বিকাশ-এর মাধ্যমে Large Value ট্রানজেকশন’ সেবা।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেবাটির উদ্বোধন করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে বিকাশের পক্ষ থেকে রিয়েল-টাইমে একটি ভ্যাট ও একটি ট্যাক্স পেমেন্ট প্রদর্শন করা হয় এনবিআর কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সামনে।

এসময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল না হওয়ায় এবং ম্যানুয়ালি নথি সংরক্ষণ না করায় বড় ধরনের ঝামেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। 

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুরো রাজস্ব প্রশাসনের মৌলিক কাজগুলো...ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর আমরা মনে করেছি ম্যানুয়াল রেকর্ডপত্র রাখা আর লাগবে না। এই জায়গায় বড় একটা ভেজাল হয়ে গেছে। এখন আমাদের না ম্যানুয়াল রেকর্ড আছে, না ডিজিটালাইজেশন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন বলেছি, যতদিন পুরোপুরি ডিজিটালাইজড না হয়, সমান্তরালে আমাদের ম্যানুয়ালি সব কিছু রাখতে হবে। এছাড়া দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। বড় একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। আমরা কোনো তথ্য-উপাত্ত পাই না। আগে যেরকম রেজিস্টার ব্যবস্থা থেকে পেতাম, এখন বলছি ডিজিটাল ব্যবস্থা থেকে পাব। সব যদি ডিজিটালাইজড না হয়, তাহলে এই তথ্য দিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে পারবো না।’

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দক্ষতার অভাব আছে এবং ডিজিটাল করা গেলে এ অভাব দূর হবে বলে এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। অর্থনীতি আরও ডিজিটাল হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, অনলাইনে কর আদায় ব্যবস্থা e-TDS আরও শক্তিশালী করা গেলে সার্বিক কর আদায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিকাশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর বলেন, এই পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সপ্তাহের যেকোনো দিন, যেকোনো সময় কর, শুল্ক ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকিং সময়ের সীমাবদ্ধতা বা ব্যাংকে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন না থাকায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মক্ষেত্র থেকেই সহজ ও নিরাপদভাবে কর পরিশোধ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, সেবা গ্রহণের খরচ কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর পরিশোধ ও আদায় ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত ‘কর্পোরেট ভ্যাট-ট্যাক্স পেমেন্ট সল্যুশন’ চালু করেছে বিকাশ। এই সেবার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা ভ্যাট, শুল্কসহ বিভিন্ন সরকারি কর পরিশোধ করা যাবে। এই বিশেষ মার্চেন্ট পেমেন্ট ওয়ালেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিসবার্সমেন্ট ওয়ালেট থেকে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিকাশ মার্চেন্ট ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে। এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম কর পরিশোধ সম্ভব হবে। এই প্ল্যাটফর্মটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-TDS, IBAS, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল চালান তৈরি হবে এবং রিয়েল-টাইমে লেনদেনের অবস্থা যাচাই করা যাবে। এতে কাগজপত্র, ম্যানুয়াল রিকনসিলিয়েশন কিংবা সার্টিফিকেট আদান-প্রদানের প্রয়োজন থাকছে না।

ডিবিটেক/ডিএমও/পিও/ইকে