চাকসু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান
সাড়ে তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির; প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পেরে তলানিতে রয়েছে ছাত্রদল। নির্বাচনে ২৬ পদের বিপরীতে ভিপি-জিএসসহ ২৪টিতেই জয় তুলে নিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেলের প্রার্থীরা। এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে একচেটিয়া জয়ের ধারা বহাল রাখলো জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনটি। তবে একটি পদে জয় তুলে নিয়ে জয় খরা ঘুচিয়েছে ছাত্রদল। এর আগে ডাকসু ও জাকসুতে তাদের একজন প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি।
ভোটে শীর্ষ দুই পদ ছাড়া অন্যান্য সম্পাদক পদের মধ্যে ছাত্র শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান। ৬,১২৮ ভোট পেয়ে তিনি ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এছাড়াও একই প্যানেল থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আঞ্জুম শোভন ৫,৬২২ ভোট পেয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক পদে এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহান ৪,৯৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে।
নির্বাচনে ভিপি হিসেবে শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ইব্রাহিম হোসেন রনি ৭,৯৮৩ ভোট পেয়ে এবং জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব ৮,০৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ৪,৩৭৪ ভোট এবং জিএস প্রার্থী শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ২,৭২৪ ভোট।
শুধু এজিএস ও সহ খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পায়নি ছাত্রশিবির। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি পেয়েছেন ৭,০১৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সাজ্জাত হোছন মুন্না পেয়েছেন ৫,০৪৫ ভোট।
অপরদিকে সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন তামান্না মাহফুজ স্মৃতি; যিনি ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়েছেন।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক- হারেজুল ইসলাম ওরফে হারেস মাতাব্বর
এছাড়াও নির্বাচনে সম্পাদক পদে আরও বিজয়ী হয়েছেন -
সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক- জিহাদ হোসাইন
দফতর সম্পাদক- আবদুল্লাহ আল নোমান
সহ-দফতর সম্পাদক- জান্নাতুল আদন নুসরাত
ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক- নাহিমা আক্তার দ্বীপা
সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক- জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা
সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক- তাহসিনা রহমান
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকস্বাস্থ্য বীমা- আফনান হাসান ইমরান
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক- মোনায়েম শরীফ
যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক- মো. ইসহাক ভূঁঞা
সহ-যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক- ওবাইদুল সালমান
আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক- ফজলে রাব্বি তৌহিদ
পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক- মাসুম বিল্লাহ
আর ৫ নির্বাহী সদস্যরা হলেন- জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা, আদনান শরীফ, আকাশ দাশ, সালমান ফারসী ও সোহানুর রহমান।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় সভাপতিদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল।







