আগামী বছর থেকে অনলাইনেই দাখিল করা যাবে করপোরেট ট্যাক্স
আগামী বছর থেকে অনলাইনেই করপোরেট ট্যাক্স দাখিল করা যাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে আমরা করপোরেট ট্যাক্স অনলাইন সামমিশনে (দাখিল) নিয়ে আসবো। করপোরেট ট্যাক্স এবং ইনকাম ট্যাক্সের জন্য অ্যাপও তৈরি করা হবে। আপনারা যদি সহযোগিতা করেন তবে যে স্বপ্ন দেখছি সেটা বাস্তবায়ন করবো। যখন দৌঁড়াদৌঁড়ি কমে যাবে তখন ক্লাইয়েন্টদের (গ্রাহক) জন্য নানা পরিকল্পনা করতে পারবেন। যাতে করে ট্যাক্স রিলেটেড সব কাজ ঘরে বসেই করা যায়।’
১৪ সেপ্টেম্বর, রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাল্টিপারপাস হলে ট্যাক্স রিপ্রেজেনটেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আবদুর রহমান খান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ট্যাক্স রিপ্রেজেনটেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অ্যাপ আমরা নিজেরা তৈরি করেছি। সবগুলো কাজ অনলাইনে হচ্ছে। এই সিস্টেমের বড় সুবিধা হলো নিজেরা তৈরি করেছি সুতরাং সমস্যা হলে বেগ পেতে হবে না। সমস্যা হলেও দ্রুত সমাধান করতে পারবো। এটা বড় সুযোগ যে, নিজেদের একটা ডাটাবেইজ তৈরি হচ্ছে। সুতরাং একটা ইন্টারডিপেনডেসি আছে। দ্রুত সব কিছু নিজেরা সমাধান করতে পারবো।
নতুন অ্যাপসের উপকারিতা তুলে ধরে আবদুর রহমান খান বলেন, অনেক সময় ছুঁটাছুটিতে সময় নষ্ট হয়ে যায়, এখানে সেটা হবে না। সব কাজ ঘরে বসে শেষ করা যাবে। এটা আপনাদের জন্য একটা বিরাট সুবিধা হবে। কেউ ভুল করতে পারবে না। টোটাল ইকোনমিক ডিজিটালাইজেশনে করে ফেলবো, এটা ভবিষ্যতের জন্য করতেই হবে। কীভাবে ব্যাংক থেকে রিটার্নে চলে আসা যায় সেটা করবো। আমরা বলেছি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সঙ্গে আমরা সিস্টেমটা কানেক্ট করে দেবো। তখন দেখবেন রিটার্নে সব কিছু ফিলাপ হয়ে যাবে। এতে করে ভুলভ্রান্তি কমে যাবে। সম্পদ লুকানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। এতে সবাই সুফল পাবেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই ধরনের অ্যাপ বা কর্মসূচি সবার জন্য মঙ্গলজনক। আমি ট্যাক্স দিয়ে থাকি অন্যদের মাধ্যমে। তবে অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে সব কিছু করা যাবে। ক্লায়েন্টের জন্য ভালো হবে। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, রাজস্ব খাতে সরকার ভালো কিছু করছে, এটা কেউ স্বীকার করবে না। অ্যাপের মাধ্যমে সরকারের উপকার হবে, দ্রুত ট্যাক্স সংগ্রহ করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান।
তিনি বলেন, আইটি সেক্টরে ডেভলপের কথা উঠলেই অনেকে বিদেশি হার্ডওয়্যার নিতে আগ্রহী হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে বেশি বিদেশ নির্ভর হয়ে গেছে। বাইরে থেকে হায়ার (ভাড়া) করা মানেই বেশি টাকা খরচ হবে। যারা বাইরে থেকে আসে তারা কাজের চেয়ে বেশি কথা বলে। তারা কেউ কেউ ভালো কাজ করলেও, কারো এর পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য থাকে।
এ সরকার মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাচ্ছে, সব কাজের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করলেও অনেকে বাইরে থেকে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না, তারা হতাশ। হতাশ হবেন না। মানুষের জন্য আমরা যা করে যাচ্ছি এটা ইতিবাচকভাবে দেখুন। পরবর্তী সরকারের এটা কাজে লাগবে।
তিনি বলেন, আইনজীবীরা যখন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করে। তার চেয়ে সহজভাবে কাজটি করে দিলে ক্লায়েন্টরা আন্তরিকতার সঙ্গে একই টাকা দেবে।
টেক্স আইনজীবী প্রয়োজনে বিনা পয়সায় ট্যাক্স রিটার্ন দিয়ে দেবেন, এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, টাকা পয়সা ছাড়াই সহজে কাজ করে দেবেন এটা সম্ভব নয়। বরং ভালো করে সেবা দিয়ে টাকা দাবি করবেন মানুষ কোনো আপত্তি করবে না।
এনবিআর আয়কর রিটার্ন অটোমেশন করেছে, আয়কর আইনজীবীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় গতিশীল হবে। অনলাইন ভিত্তিক কাজ হলে- এটা ব্যক্তি বা সরকারি পর্যায়ে হোক না কেন, সবার জন্য মঙ্গল। আমরা সেই কাজটি করছি।







