প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
ফের আগা খান পদকে স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম
ফের 'আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার' পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি হিসেবে দ্বিতীয়বার এই পদক পেলেন তিনি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তানের বিসকেকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
জানা গেছে, মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার–২০২৫–এর জন্য মনোনীত হয়েছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার এই পুরস্কারের জন্য মেরিনা তাবাসসুমসহ সাত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০১৬ সালে স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম প্রথমবারের মতো একই পুরস্কারে ভূষিত হন। তখন বাইত উর রউফ মসজিদের স্থাপত্য নকশার কারণে পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এই বছর বন্যার্তদের জন্য বাঁশ এবং টিনের তৈরি খুদি বাড়ির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন।
স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমকে দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ আগা খান আর্কিটেকচার পুরস্কার অর্জনের জন্য একইদিনে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য এক বিরল ও ঐতিহাসিক গৌরব বলে উল্লেখ করেছেন।
মেরিনা তাবাসসুমকে লেখা অভিনন্দন বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আপনার নির্মিত জলবায়ু-সহনশীল, সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য আবাসন ‘খুদি বাড়ি’ এক অসাধারণ মানবিক স্থাপত্যের দৃষ্টান্ত।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ঢাকা’র বায়তুর রউফ মসজিদ প্রকল্পের জন্য মেরিনা তাবাসসুম প্রথমবার আগা খান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। সেই অর্জন বাংলাদেশের স্থাপত্যকে বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এবারের স্বীকৃতি সেই ধারাবাহিকতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই সম্মান বাংলাদেশকে আবারও বিশ্ব দরবারে সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। তিনি মেরিনা তাবাসসুমকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনার কাজ প্রতিকূলতাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করেছে এবং সহমর্মিতা ও টেকসই সমাধানের পথে আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে।”
একই সঙ্গে তিনি স্থপতির জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ও জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান পরামর্শক হিসেবে অমূল্য অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
মেরিনা তাবাসসুমের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্থপতি ও পরিবর্তন-সাধকদের জন্য আলো ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
২০২১ সালে আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস অ্যাওয়ার্ডসের সোয়ান পদক পেয়েছিলেন মেরিনা। ২০২২ সালে লিসবন আর্কিটেকচার ট্রিয়েনালে মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন তিনি।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস’। ১৯৯৪ সালে বুয়েট থেকে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯৫ সাল থেকে আরবানায় কর্মরত ছিলেন। এর সহপ্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।
আবদুল্লাহপুরের বাইত উর রউফ মসজিদের জন্য তার তৈরি নকশা দিয়ে পরিচিতি পান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।







