ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট ‘রুফটপ সোলার’ স্থাপন

ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট ‘রুফটপ সোলার’ স্থাপন
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:১০  
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৭:৫১  

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। আর ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সব বিভাগীয় শহরে রুফটপ সোলার স্থাপনে ক্লাস্টারভিত্তিক ফ্রাঞ্চাইজি চালু করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। আর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে অচিরে একগুচ্ছ প্রণোদনামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার।

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে, ২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘সোলার রুফটপ ফাইন্যান্স উন্মোচন: একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা জানান বক্তারা। সভায় এই খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাংকগুলোর জটিল ও শর্তযুক্ত অর্থায়ন পদ্ধতি সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন বিনিয়োগকারীরা। 

বিপরীতেএই খাতে বিনিয়োগের কিছু নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সভায় উপস্থিত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, সিটি ব্যাংকসহ আরও কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। 

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ইডকল ইতোমধ্যে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ ও বড় প্রকল্পে সফলতা দেখিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এনবিএফআইগুলো লিজিং, প্রজেক্ট ফাইন্যান্সিং, পে-অ্যাজ-ইউ-সেভ মডেল ও গ্রিন বন্ডের মতো নতুন আর্থিক পণ্য চালু করলে বিনিয়োগ ঝুঁকি কমবে এবং টেকসই মুনাফা নিশ্চিত হবে। তা না হলে ২০৪০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

বিএসআরইএ ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্রেডা, ইডকল, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীরা আলোচনায় অংশ নেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খোন্দকার মোরশেদ মিল্লাত।

সভায় ‘সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে সরকার অচিরে একগুচ্ছ প্রণোদনামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে’ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, “২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সোলার প্লান্টে জড়িত। রুফটপ সোলার এখন আমাদের দেশে খুব প্রয়োজন। ইপিজেড, ইজেড ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ শতাংশ সৌর বিদ্যুতের নীতিমালা আসছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা আসছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সব বিভাগীয় শহরে ক্লাস্টারভিত্তিক ফ্রাঞ্চাইজি চালু করার উদ্যোগ নেবে বিপিডিবি। পেমেন্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসক্রো সিস্টেম চালু করা হবে।”

রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে পিপিপি মডেলে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘প্রযুক্তি উন্নতির ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে আসলেও তা এখনও উদ্যোক্তাদের কাছে অজানা’ মন্তব্য করে ইডকলের প্রধান নির্বাহী আলমগীর মোরশেদ বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইডকল সামনে থাকবে। ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসলে মিশ্র বিনিয়োগ হতে পারে। এখন প্রতি ওয়াটের খরচ ৩০/৩৫ টাকায় চলে আসছে। যেখানে ১০ বছর আগে ১০০ টাকার উপরে ছিল। এখন বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিএসআরইএ'র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩,০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এই খাতে সম্ভাবনা থাকলেও বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অর্থায়ন। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ, যা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।”

বিএসআরইএ'র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩,০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এই খাতে সম্ভাবনা থাকলেও বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অর্থায়ন ও দীর্ঘসূত্রতা।বিশেষ করে নেট মিটারিংয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ, যা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ”

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসির একজন প্রতিনিধি বলেন, “গত ২/৩ বছরে বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা ভালো। আমরা ৮০ মেগাওয়াটের মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছি। এখন দরকার হচ্ছে সচেতনতা বাড়ানো। গ্যাস ছাড়া সেকেন্ড সুলভমূল্যের বিদ্যুৎ হচ্ছে রুফটপের সৌরবিদ্যুৎ।”

সেমিনারে আরও বলা হয়, রুফটপ সোলার কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্রেডাকে নীতিমালাকে আরও স্বচ্ছ ও বেসরকারিখাতবান্ধব করতে হবে। ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোকে গ্রিড সংযোগ ও নেট মিটারিং সহজ করতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীদেরও ঝুঁকি গ্যারান্টি ও বৈশ্বিক মডেল নিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন সীমান্ত।