জুলাই অভ্যূত্থান দায় ও দরদের : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

জুলাই অভ্যূত্থান দায় ও দরদের : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
৪ আগষ্ট, ২০২৫ ১৮:০০  
৪ আগষ্ট, ২০২৫ ২২:০৭  

জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তা-কর্মীদের নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫ পালন করলো ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

৪ আগস্ট, সোমবার বিকেলে শেরে বাংলা নগরের বিটিআরসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে  'আলোচনা সভা ও শহিদ স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠানে' দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। 

সভায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখা টিএন্ডটি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা অর্পি এবং আদিবা কাদির তানজিমকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বললেন, এই আন্দোলন শুরু হয় ২০১৮ সালে। কিন্তু ৩৬ জুলাই তা পরিণতিতে পৌঁছে। এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হলেও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছে। যে কোনো বিভৎসতা আমাদের ট্রমায় ফেলে। সমাজে নানা রুঢ়তা এখনো রয়েছে। আত্ম উন্নয়নের মাধ্যমে সবাইকে কথা বলা, সত্য বলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান আমরা দায় ও দরদের। এক্ষত্রে বারবার যেন রাস্তায় নামতে না হয় সেজন্য সংস্কার চলমান রয়েছে। সংশদ, শাসন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে চাই যাতে নির্বাচিত সরকার ফ্যাসিস্ট হতে না পারে। জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক সচেতন করেছে। 

আগামী এক বছরেরর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকার বাইরেরর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল ল্যাব নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ আরো উন্নত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন টেলিযোগাযোগ ও সেবা নিয়ে কাজ করছি। গতি কম হলেও আগামী নির্বাচনের আগে তা শেষ হবে। পাশাপাশি বাজেটে বন্টিত অর্থ বৈষম্যহীন বন্টন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা ও সব নাগরিকের সমান ডিজিটাল সেবার সুযোগ নিশ্চত করে আমরা আমাদের দরদ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, মূল ধারার রাজনীতিকরা যখন ব্যর্থ হয় তখন শিক্ষার্থীরা আবাবিল পাখির মতো আবির্ভূত হয়। অকুতোভয় ছাত্ররা গুম, খুন, আয়না ঘরকে ভয় করেনি। আমরা তাদের ত্যাগের সুবিধ্ভোগী। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ঋণ শোধ করতে হবে।

নব নিযুক্ত টেলিকম সচিব আব্দুন নাসের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী বলেন, জুলাই আন্দোলন দমনে হেলমেট বাহিনী নেমেছিল। আমি তখন বিইউপি'র প্রধান হিসেবে আমি ছাত্রদের সঙ্গে মাঠে নেমেছিলাম। ক্যম্পাসে কথা বলতে না পারায় তা ক্ষুব্ধ হয়ে ফুঁসে ওঠে। শুরুতে শিক্ষক, অভিভাবক নামলেও গোয়র্তুমির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ যোগ দেয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষমতার উৎস তার প্রমাণ হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে জনশক্তিকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে শঙ্কার বিষয় আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে এসে কীট-পতঙ্গের দৌড়ে নেমেছি। এখন ঘুষ-দুর্নীতিকে সমষ্টিকনভাবে মেনে নিয়েছি। এখান থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে নিজে জুলাই বৈষম্য জয়ের সুফলভোগী উল্লেখ করে আব্দুন নাসের বলেন, একুশ আমাদের মাথা নত না করতে শেখায়। এরপর স্বাধীকার আন্দোলনের পর এবার আমরা জুলাই ২৪ এ বৈষম্যহীন করেছে। আমরা মনে করি, সরকারি কর্মকর্তা সরকারের আদেশ পালন করবে প্রয়োজন মতো। তবে সবসময় রাষ্ট্রের আনুগত্য করবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব শাহ আলম।