ফেইক কল, মেলেনি বোমা; বিমানের কাঠমন্ডু ফ্লাইট ছাড়লো ৪ ঘণ্টা পর
বোমা আতঙ্কে আটকে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাঠমান্ডুগামী ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ছেড়ে গেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ৯টায় বিমানটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে বলে জানিয়েছেন করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা রওশন কবির।
এর আগে শুক্রবার বিকেলের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-কাঠমান্ডুগামী ফ্লাইট বিজি-৩৭৩ কাঠমুন্ডুর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করে। ঠিক সেই সময় অচেনা কলে ওই ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি পাওয়া যায়।
এ কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। উড়োজাহাজটির বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান।
এ নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র স্কোয়াড্রন লিডার মো. মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, এক পর্যায়ে ফ্লাইটে থাকা ২ জন পাইলট, ১৪৩ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তল্লাশিতে যোগ দেয় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের বোম ডিসপোজাল টিম, কে নাইন টিমসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্য। প্রায় ৩ ঘণ্টা তল্লাশি করা হলেও বোমা কিংবা বোমা সাদৃশ্য কোন বস্তুর অস্তিত্ব মেলেনি।
অপরদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জিএম (পিআর) এ বি এম রওশন কবীর সাংবাদিকদের জানান, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বিজি-৩৭৩ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে ফোনকলের মাধ্যমে জানানো হয় যে, বিমানের ফ্লাইটে বোমা রয়েছে। সে সময় ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়। শুরু হয় তল্লাশি। তবে বিমানবাহিনী, র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পাননি। ফলে সাড়ে ৮টার কিছু পরে বোর্ডিং শুরু হয়।
তিনি আরো বলেন, বিমান কখনোই সেফটি ও সিকিউরিটির সঙ্গে আপস করে না—আজকের ঘটনাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আজকের বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বদা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ছাড়া কারা কী উদ্দেশ্যে এই হুমকি দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।







