এনবিআরের কর্মকর্তাদের নামে ছড়ানো স্ক্রিনশট ‘ভুয়া ও গুজব’

এনবিআরের কর্মকর্তাদের নামে ছড়ানো স্ক্রিনশট  ‘ভুয়া ও গুজব’
২৬ জুন, ২০২৫ ১৯:৩৯  
২৬ জুন, ২০২৫ ২১:৩৯  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, ডিজি-সিআইসি, কর গোয়েন্দা ইউনিটের কমিশনার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো স্ক্রিনশট ভুয়া দাবি করে মোবাইল স্ক্রিনশট তৈরি করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ২৬ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনবিআর চেয়ারম্যান, ডিজি-সিআইসি, কর গোয়েন্দা ইউনিটের কমিশনার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িয়ে ভুয়া মোবাইল স্ক্রিনশট তৈরি করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে- বিদেশে নিবন্ধনকৃত একটি ফোন নাম্বার এবং একটি ‘এআই সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এ ধরনের মিথ্যা গুজব ছড়ানো মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ। যে বা যারা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এসব ভুয়া মোবাইল স্ক্রিনশট দ্বারা সৃষ্ট গুজবে কান না দেওয়ার জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ চেয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।  

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার ও নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিতে কর্মকর্তাদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল ঘোষণা করে, তাদের পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী আগামী ২৭ জুনের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা হলে ২৮ জুন থেকে দেশের সকল কাস্টমস ও কর অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে। 

এছাড়া ওই দিন ‘এনবিআরের অভিমুখে মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যেখানে দেশব্যাপী আন্দোলনকারীদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কাউন্সিলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, ‘এই মুহূর্তে, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমত খানকে অবিলম্বে অপসারণ ছাড়া কোনো কার্যকর সংস্কার সম্ভব নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৪ দাবিতে গত শনিবার থেকে দ্বিতীয় দফার আন্দোলন করছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার  দুপুর ১২টা থেকে এনবিআর ভবন অবরুদ্ধ করে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় এনবিআর ভবনে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেয়নি। এনবিআর চত্বরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। তবে ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছে ঐক্য পরিষদ।

 প্রসঙ্গত,  সরকার গত ১২মে এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে।এর বিরোধিতা করে গত ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির আন্দোলন করেন এনবিআরের অধীন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা।