উদ্ভাবনী ব্যবসায় তিন নারী পেল ১২ হাজার মার্কিন ডলার
নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন, এশিয়া ফাউন্ডেশন ও ভিসা’র যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিজনেস পিচ কম্পিটিশন’। ২৫ জুন (বুধবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত তিন উদ্যোক্তা পুরস্কৃত হয়েছেন। এই তিনটি উদ্যোগই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রযুক্তি সেবায়।
|
|
প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ‘ইউনিক হোম’ উদ্যোক্তা শারমিন সুলতানা পেয়েছেন ৫ হাজার মার্কিন ডলার। সফটওয়্যার প্রকৌশলী থেকে উদ্যোক্তা হওয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সাবেক এই শিক্ষক শুরু করেছেন মর্ডান ডরমেটরি। এখানে কো-শেয়ারিং স্পেসে মাত্র ৩৪৯ টাকায় এক দিন যাপন করতে পারেন ব্যাচেলররা। এই খরচের মধ্যেই তিনি ওই দিনের থাকা, খাওয়া, পড়া, লন্ড্রি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান ব্যাচেলররা। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে অর্ধেক অংশীদারিত্বে এই ব্যবসায় গড়ে তুলেন তিনি। ৫০ হাজার বর্গফুটের ৫টি শাখা থেকে ঢাকায় এই সেবা দিচ্ছেন তিনি। পুরস্কারের এই অর্থ দিয়ে উত্তরাতে আরো দুইটি ফ্লাট নেয়াসহ বয়স্কদের জন্য একই সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। |
| প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন ‘আইন সেবা’র উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার রহিমা হক, যিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ডলার। উদ্যোক্তাদের ত্রুটিযুক্ত লিগ্যাল ডক্যুমেন্টস ঠিক করে দিয়ে আইন জানা ও সেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে কর্পোরেট ল’, আইনকর, শ্রম আইন, চুক্তি ড্রাফট ও মোকদ্দমা ও লিগ্যাল নোটিশের ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ ও অনলাইনেই সেবা দেয়ার এই উদ্যোগ নেয়া হয় কোভিড লকডাউনে। তিনি বলেন, শুরুতে কেউ অনলাইনে আইনি সেবা নিয়ে আমাকে কেউ বিশ্বাস করেনি। মাত্র ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি পেইড আপ জুম সংযোগ নিয়ে অনলাইনে লিগ্যাল এইড ও ট্রেনিং শুরু করি। এরপর ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠি। এর পর ওয়েবসাইট তৈরি করে এখন পুরো দস্তুর অনলাইনে আইনি সেবা দিচ্ছি। |
|
|
|
তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ‘রোড বুক বিডি’র তাকিয়া সুলতানা নোভা। তার পুরস্কার ৩ হাজার মার্কিন ডলার। নোভার উদ্যোগটির মাধ্যমে রাজধানীতে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন সেবা দেয়া হয়। এ জন্য মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জন্য বাইসাইকেল, স্কুটি ও কার চালানো শেখান। এখন কিস্তিতেই যেন নিজের পরিবহন কিনতে পারেন সে জন্য এই যান কেনার সুযোগ করে দিতে চান তিনি। আনতে চাইছেন মেয়েদের জন্য অ্যাপ ভিত্তিক ফিনটেক ও রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম। |
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমান।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানো হলে ৯২টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে ২৪ জন নারী উদ্যোক্তাকে দুই দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ১০ জনকে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়।
জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ) নওশাদ মুস্তাফা, পারসোনার সিইও কানিজ আলমাস খান, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হুসনা ফেরদৌস সুমি।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান, ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান) সাব্বির আহমেদ এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের মঙ্গোলিয়ার ভিজিটিং কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সারা টেইলর উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশকে একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এসএমই খাত একটি অনুঘটক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস গঠনে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করে। উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও উদ্যোক্তা শক্তিকে উৎসাহিত করতে আমরা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে ছিলাম।
এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সারা টেইলর বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যেভাবে সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপ দিচ্ছেন, তা অভাবনীয়। তারা কেবল নিজেদের ভবিষ্যত নয়, দেশের এসএমই খাতকেও নতুন দিশা দেখাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭৮ লাখের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশেরও বেশি। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই এসএমই খাত থেকে আসে, যেখানে প্রায় আড়াই কোটির বেশি মানুষ সরাসরি নিয়োজিত। এসএমই ফাউন্ডেশন সরকার ঘোষিত শিল্পনীতি ২০২২ ও এসএমই নীতিমালা ২০১৯ অনুযায়ী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ২০৩০) বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি এখনও পর্যন্ত লক্ষাধিক নারী উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা প্রদান করেছে এবং ভবিষ্যতেও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে কার্যকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।







