বাংলাদেশে থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে বিএনএনআরসি

তথ্য অধিকারকে ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান

তথ্য অধিকারকে ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক  করার আহ্বান
২৪ জুন, ২০২৫ ১৬:৩৩  
২৪ জুন, ২০২৫ ২৩:১৮  

"আন্তর্জাতিক চাপে তথ্য জানার স্বাধীনতা — তথ্য জানার ভবিষ্যৎ হলো ডিজিটাল" স্লোগানে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম আন্তর্জাতিক তথ্য কমিশনারদের সম্মেলন (ICIC)।  ৪ দিন ব্যাপী এই সম্মেলন ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত। জার্মানির ফেডারেল তথ্য সুরক্ষা ও তথ্য জানার স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনার (BfDI) এর সৌজন্যে চলমান এই সম্মেলনে প্রায় ১০০টি দেশের তথ্য কমিশনার, অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী বা ওম্বাডসপার্সন ওযেসব সংস্থা সরকার-রক্ষিত তথ্যের উপর জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন সেই কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সূত্রমতে, যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে তথ্য কমিশন তথ্য কমিশনার ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে, ১৬তম আন্তর্জাতিক তথ্য কমিশনারদের সম্মেলনে (ICIC) বাংলাদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে না।

তবে  পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান হিসেবে  এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (BNNRC)। বিএনএনআরসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান সম্মেলনে বক্তা হিসেবে তথ্যের অখণ্ডতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

এই সম্মেলনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিবেশগত তথ্যের ডিজিটাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উপর, যেখানে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম জলবায়ু সম্পর্কিত তথ্যকে গণতান্ত্রিকীকরণ এবং কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য সুরক্ষা এবং তথ্য স্বাধীনতা বিষয়ক ফেডারেল কমিশনারের কমিশনার অধ্যাপক স্পেচট-রিমেনশনাইডার।

তথ্য জানার অধিকারকে একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অভিপ্রায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়র এই সম্মেলন উপলক্ষে বার্লিন পরিণত হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দুতে।

২০২৫ সালের ICIC সম্মেলন একটি সাহসী, ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ডাক দিয়ে— কিভাবে ডিজিটাল যুগে তথ্য জানার অধিকারকে নতুন করে কল্পনা করা যায় সেসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এই সম্মেলনে।  আলোচনায় এখন পর্যন্ত যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেগুলো হলো-

সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় রূপান্তর: পুরনো, কাগজ-নির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক কর্মপ্রবাহ তৈরি করতে সম্মেলনে সরব হয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

এআই-সহায়িত ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে নথি শ্রেণিবিন্যাস, সম্পাদনা ও প্রকাশনাকে দ্রুততর করা এবং ব্যবহারকারীর উপর খরচের বোঝা হ্রাস করা।

তথ্য জানার অধিকারকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি: সরকারকে স্বচ্ছ, দক্ষ ও নাগরিক-কেন্দ্রিক করতে তথ্য প্রবেশাধিকারকে রাষ্ট্রীয় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। 

বৈশ্বিক তথ্য জানার অধিকার (ATI) প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
উন্নতির পরেও, তথ্য জানার অধিকার (ATI) এখনও চাপে রয়েছে। ICIC তুলে ধরবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও উদীয়মান সুযোগ:

আইনি বাধা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ: কিছু সরকার অস্বচ্ছ আইন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে, এবং বাজেট ঘাটতি কার্যকর নজরদারিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ATI আইনে বৈশ্বিক অগ্রগতি: ২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশ নতুন ATI আইন গ্রহণ করেছে, কিছু দেশ স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে প্রয়োগ শক্তিশালী করেছে।

এসডিজি ১৬.১০ অন্তর্ভুক্তি: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অংশ হিসেবে, SDG 16.10 তথ্য জানার অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, যা বৈশ্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

ডিজিটাল ও নাগরিক উদ্ভাবন: ওপেন ডেটা পোর্টাল, মেশিন-পাঠযোগ্য ফরম্যাট, নাগরিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম (যেমন: Alaveteli, OpenStreetMap, Ushahidi) এবং এআই টুলস নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে শক্তিশালী করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: UNESCO সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তথ্য জানার অধিকার বাস্তবায়নে, বিশেষত গ্লোবাল সাউথে, সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করছে।

বলা হচ্ছে, যেখানে স্বৈরতন্ত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্য স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, জনগণের তথ্য জানার অধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ICIC সেখানে একটি সম্মিলিত সংকল্পের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে । তথ্য জানার ভবিষ্যৎ ডিজিটাল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে এ বছরের সম্মেলনে সরকার, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।