এবার আইন চর্চায় মনোযোগী পলক!
কারাবাসের প্রায় ৯ মাসের মাথায় ব্যতিক্রমী আচরণ করলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক। অচঞ্চল ও কিছুটা গম্ভীর দেখা গেলো তাকে। সোমবার আদালতে নেয়ার পথে পূর্বের নিয়ম ভেঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। এমন কি বেশ কিছু ইশারা দিয়ে নানা ভাবে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসতে দেখা গেছে তাকে।
তবে সোমবার তাকে দেখা যায় বেশ চিন্তিত মুডে। মুখ ভার। হাজত খানা থেকে এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথা নিচু অবস্থায় ছিলেন বেশির ভাগ সময়। হেলমেটের কাচটাও ছিলো নামানো। একইভাবে বেশ নিরুত্তাপ ছিলেন এজলাসেও।
সেখানে ফের আইনচর্চায় মনোযোগী হবার আভাস মিললো তার আচরণে। সকাল সাড়ে ১০টার পর এজলাসে আইনজীবি তরিকুল ইসলামের পাশে থাকা অপর আইনজীবি ফারজানা ইয়াসমিন রাখি;র দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পলক। তাকে ডেকে বললেন, ‘আমাকে কারাগারে কয়েকটি বই পৌঁছে দেবে।’ তখন ফারজানা পলককে বলেন, ‘কী কী বই আপনাকে দিতে হবে।’
উত্তরে তিনি বললেন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি), দেওয়ানি কার্যবিধি (সিপিসি), দণ্ডবিধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উন্নয়নের দর্শন এবং জাতীয় সংসদে জুনাইদ আহ্মেদ পলক।
এরপর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে উচ্চ আদালত এবং জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করতেন পলক। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই তার আইনচর্চা কমে যায়। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি আবার আইনের বই পড়া শুরু করেছেন।
এই কথার সুস্পষ্ট ছাপ ছিলো কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দী পলকের সোমবারের আচরণে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ১৪ আগস্ট গ্রেফতার হন তিনি। অভ্যুত্থানের দিন তিন সংসদ ভবনেই লুকিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন আদালতকে। যদিও তাকে গ্রেফতার করা হয় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। এরপর আইএসপিআর থেকে প্রকাশিত তালিকার দেখা যায়, ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহণকারীদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে তার নাম। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি মামলায় কাশিমপুর কারাগারে আটক আছেন। প্রথম শ্রেণীর বন্দি হিসেবে সেখানে তিনি বিশেষ কক্ষে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। ওই কক্ষে একটি খাট, একটি টেবিল ও চেয়ার আছে। আরও আছে টিভি এবং একটি জাতীয় পত্রিকা। এর বাইরে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সেলের তালা খুলে দেয়া হলে অপর বন্দীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সুযোগ পান। একইসঙ্গে কারাগারের লাইব্রেরিতে থাকা দুই হাজারের বেশি বই ইচ্ছে মতো পড়ার সুযোগ রয়েছে।
এরপরও সোমবার আদালতে আইনজীবির কাছে বই চাওয়া বিষয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সরকারঘোষিত নিষিদ্ধ বই ছাড়া যেকোনো ধরনের বই কারাবন্দীরা কারাগারে নিয়ে আসতে পারেন। তবে সরবরাহের আগে কারা কর্তৃপক্ষ সেসব বই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সবকিছু যাচাইয়ের পর বইগুলো সংশ্লিষ্ট কারাবন্দীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।







