একটিভ ও প্যাসিভ শেয়ারিং এর মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড-মোবাইল একসাথে কাজ করার আহ্বান

একটিভ ও প্যাসিভ  শেয়ারিং এর মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড-মোবাইল একসাথে কাজ করার আহ্বান
৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:৫৫  
৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:৫৭  

মাত্র ৫০০ টাকার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিয়ে গ্রামে বসেই ফ্রিল্যান্সাররা রেমিটেন্স আনছে দেশে। সেই সংযোগ ব্যবহার করে বিদেশে থাকা স্বজনের সাথে কথা বলছেন পরিবারের সদস্যরা। অপরদিকে নানা ওটিটি বা বিনোদনে নামে  দেশের টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে। এর উপর ১০০ টাকার ইন্টারনেটের ৬০ টাকায় নিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাশের দেশ থেকে ইন্টারনেট সেবার অন্যতম হাব সিডিএন দেশের স্থাপন করা হলে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ কমে যাবে। তাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে মোবাইল অপারেটরদের  সুযোগ দিতে নতুন লাইসেন্সিং হুটহাট করে পলিসি বদল না করে মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দাতাদের হাতে হাত রেখে আহ্বান করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন আয়োজিত 'প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুতগতির মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট প্রাপ্তিতে করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় সব কথা বলেন বক্তারা।  সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা মাহমুদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদ ফাইজ তাইয়েব আহমেদ৷ বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি'র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিলুর রহমান, টেলি যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন, আইআইজিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম, বিডি জবস এর সিইও ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর, আইএসপিএবি'র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) হেলাল উদ্দিন, বেসিস এর অ্যাসোসিয়েট কমিটির সভাপতি রাফেল কবির, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসির, গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিনিয়র ডাইরেক্টর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত, বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান,  রবিথ রেগুলেশনের ডিরেক্টর শাহ মো. ফজলে খোদা প্রমুখ। 

মূল প্রবন্ধে সুপারিশে বলা হয়, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবা খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেটের গতি হতে হবে সর্বনিম্ন ২০ এমবিপিএস। কোয়ালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করতে হবে। ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের মূল্য কমিয়ে আনতে হবে। ডাটার কোন মেয়াদ থাকবে না। ইন্টারনেট যে কোন অজুহাতে বাজে কোন কারনে সরকার বন্ধ করবে না এই ঘোষণা অথবা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। 

সুপারিশে আরও বলা হয়, অবৈধ আইএসপি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে মোবাইল অপারেটরদের আইএসপি ব্যবসা থেকে বিরত রাখতে হবে। ওভারহেড ফাইবার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। ব্যান্ডউইথ ও এনটিটিএন এর দাম নির্ধারণ না করে বাজার প্রতিযোগিতায় ছেড়ে দিতে হবে। ইন্টারনেট এর ওপর কর কমিয়ে আনতে হবে। সহজ লভ্য হ্যান্ডসেট গ্রাহকদেরকে কিস্তির মাধ্যমে অপারেটরদেরকে বিক্রয়ের জন্য বাধ্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মোবাইল অপারেটর যদি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায় আসে তাহলে আইএসপির ব্যবসা থাকবে না।