গবেষণাগার থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছানোর প্রত্যয়ে মেলায় বাকৃবি

ইনোভেশন ফেয়ারে বাকৃবির ৩৬টি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ বাকৃবির ৩৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হবে।
  • ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে এ মেলায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণীসম্পদ ও বায়োটেকনোলজি খাতের প্রোটোটাইপ ও বৈজ্ঞানিক পোস্টার তিনটি স্টলে উপস্থাপন করা হবে
  • বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে বাণিজ্

ইনোভেশন ফেয়ারে বাকৃবির ৩৬টি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৪  
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৫  

ময়মনসিংহ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রযুক্তি সম্মেলন ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে নিজেদের উদ্ভাবিত ৩৬টি কৃষি ও বায়োটেকনোলজিক্যাল গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। গবেষণাগারের আধুনিক কৃষি ও জৈবপ্রকৌশল উদ্ভাবনগুলো সরাসরি মাঠপর্যায় এবং বাণিজ্যিক শিল্পখাতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইনোভেশন ফেয়ার কমিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার পর্যন্ত রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জাতীয় প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পউদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে গবেষণালব্ধ কারিগরি উদ্ভাবনগুলোর সরাসরি বাণিজ্যিকীকরণ ও বাজারজাতকরণের সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা দেশের তরুণদের মেধাভিত্তিক নলেজ ইকোনমিতে রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মেলায় বাকৃবির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনটি ডেডিকেটেড স্টল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব স্টলে উন্নত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রাণীস্বাস্থ্য ও জেনেটিক উৎপাদন, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বয়ংক্রিয় কৃষিপ্রকৌশল সম্পর্কিত উদ্ভাবনগুলোর বৈজ্ঞানিক পোস্টার, কার্যক্ষম প্রোটোটাইপ ও প্রযুক্তিগত ভিডিও ডক্যুমেন্টেশন প্রদর্শন করা হবে। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী পর্বে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন প্রদর্শন ও গবেষক-শিক্ষার্থীদের কার্যকর সম্পৃক্ততা পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভুঞাঁ এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান বলেন, মেলায় উপস্থাপিত উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগুলো কৃষক ও এগ্রিটেক উদ্যোক্তা পর্যায়ে দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রযুক্তিভিত্তিক ধারণাকে কীভাবে বাস্তব শিল্প অর্থনীতিতে প্রয়োগ করতে হয়, সে বিষয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম, ফিশারিজ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলাম।

মেলায় দেশের ৭৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বড় করপোরেট শিল্পগ্রুপগুলো অংশ নিচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রযুক্তি আসরে উদ্ভাবনী প্রদর্শনীর সমান্তরালে ৬টি প্লেনারি সেশন, ৬টি প্যারালাল টেকনিক্যাল সেশন এবং ৫টি গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি বিশেষ সংলাপ পরিচালিত হবে।
//ডিবিটেক/ ডিপিওএন/এসএমই/এমআইএসটি//