লিখিতের নম্বর কমিয়ে মৌখিকে বাড়ানোয় দলীয়করণের অভিযোগ

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

  • লিখিতের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ।
  • নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
  • শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও মিছিলে একাত্মতা জানান।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৩৪  

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এতে একাত্মতা পোষণ করে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, তদবির ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সীমিত রাখা প্রয়োজন।

৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল—‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’, ‘তদবিরের ঠাই নাই’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘২৪-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘একশান, একশান, ডাইরেক্ট একশান’, ‘কমিটি গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘নোবিপ্রবির একশান, ডাইরেক্ট একশান’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশান’ এবং ‘কোটা না মেধা-মেধা, মেধা’।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, “অতীতে লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখার পরও রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সরকারের সমালোচনার কারণে অনেক প্রার্থী ভাইভায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ফলে ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।”

আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, “আগস্ট মাসে আমরা যে জুলাই আন্দোলন সংঘটিত করেছিলাম, সেখানে আমাদের প্রাণের দাবি, মূল দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার গতকাল থেকেই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারির চেষ্টা করছে। সেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এনে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, “যোগ্যতা যাচাই না করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া কিংবা দলীয়করণের উদ্দেশ্যে কোটাব্যবস্থার পরিবর্তে এখন ভাইভার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, জালিয়াতি ঠেকাতে না পেরে ভাইভার নম্বর বাড়ানো সরকারের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।”

প্রসঙ্গত, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর মাধ্যমে নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
//ডিবিটেক/ সামিয়া হোসেন মুনিয়া/ এমআইএস/এফওইএইচ//