পরবর্তী প্রজন্মের চিপ তৈরিতে স্যামসাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ওপেনএআই

পরবর্তী প্রজন্মের চিপ তৈরিতে স্যামসাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ওপেনএআই
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫২  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআই নিজেদের তৈরি চিপের উন্নয়ন ও যৌথ গবেষণায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে কাজ জোরদার করছে। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক এআই সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই অংশীদারত্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। 

সিউলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওপেনএআই কোরিয়ার সাধারণ ব্যবস্থাপক হ্যারিসন কিম জানান, পরবর্তী প্রজন্মের চিপ তৈরি ও গবেষণার ক্ষেত্রে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের সাথে যৌথ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। 

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্যামসাংয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন, বিপণন এবং বিক্রয় বিভাগে কর্মরত কর্মীরা দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে ব্যাপকভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। 

এর আগে গত জুন মাসে ওপেনএআই ব্রডকমের সহায়তায় নিজেদের তৈরি প্রথম কাস্টম এআই চিপ ‘জালাপেনো’ উন্মোচন করেছিল, যা মূলত এআইয়ের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল যে তাদের চিপটি উৎপাদনে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি কাজ করবে। 

অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের ‘স্টারগেট’ ডাটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপ সরবরাহে গত বছর স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্স সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল। 

ওপেনএআইয়ের মতে, এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত ও জটিল হিসাব-নিকাশের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এখন ওপেনএআইয়ের স্থানীয় কার্যালয়ের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

গত আগস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক ‘চ্যাটজিপিটি এন্টারপ্রাইজ’ ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২৮ গুণ বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়াই বর্তমানে চ্যাটজিপিটির বৃহত্তম পেইড গ্রাহকবাজার। 

সম্প্রতি উন্মোচিত সর্বাধুনিক ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক রূপান্তর আরও দ্রুততর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওপেনএআই।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স