ক্লড গ্রাহকদের টোকেন চুরি করছে সাইবার অপরাধীরা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর ব্যবহারকারীদের প্রিমিয়াম টোকেন বা ব্যবহারের মোট সীমা চুরির শিকার হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পরামর্শক গ্রান্ট ডি সোয়ার্ট সম্প্রতি লক্ষ্য করেন যে, কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও তার ‘ক্লড ম্যাক্স ২০এক্স’ অ্যাকাউন্টের টোকেন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্রাউজার সেশন হ্যাক করে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে মূল্যবান টোকেন চুরি করছে সাইবার অপরাধীরা।
ইনফোস্টেলার ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাকিং
প্রতিষ্ঠানটির সেবা প্রদানকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’ নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সংক্রামিত ‘ইনফোস্টেলার’ ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে এই জালিয়াতি ঘটছে। এই ক্ষতিকর প্রোগ্রামটি কম্পিউটারে গোপনে প্রবেশ করে ব্রাউজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড, সেশন কুকিজ এবং লগইন তথ্য চুরি করে নেয়।
এর ফলে পাসওয়ার্ড জানা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের মুখোমুখি না হয়েই হ্যাকাররা সরাসরি সচল সেশন ব্যবহার করে ক্লড অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়ছে এবং ব্যবহারের সীমা শেষ করে দিচ্ছে।
রেডিট ও গিটহাবে গ্রাহকদের ক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট এবং গিটহাবে একাধিক ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, অলস বসে থাকার সময়েই কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা শতভাগ নিঃশেষ হয়ে গেছে। এমনকি কিছু গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে ব্যাংক কার্ড থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
যদিও অ্যানথ্রোপিক কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিষয়টি শনাক্ত করে অ্যাকাউন্ট সেশন বন্ধ করেছে এবং আংশিক অর্থ ফেরত দিয়েছে, তবুও নির্দিষ্ট কোনো বিষদ বিবরণ বা আইটেমাইজড তালিকা না দেওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে যে ক্লড অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের কোনো ত্রুটির কারণে এই ম্যালওয়্যার সংক্রামিত হয়নি, বরং ইন্টারনেটের অন্যান্য অনিরাপদ উৎস থেকে এটি ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারে ছড়িয়েছে।
তবে সিস্টেমে কোনো নির্দিষ্ট টোকেন ব্যবহারের স্বচ্ছ হিসাব দেখার সুযোগ না থাকায় ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারছেন না কোথায় কীভাবে তাদের টোকেন ব্যয় হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত ও সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে হতাশ হয়ে অনেক পেশাদার ব্যবহারকারীই ক্লডের বিকল্প হিসেবে কার্সরের মতো অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





