আইসিডিডিআর,বি-র গবেষণায় ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি সংক্রমণের শিকার; আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি

দেশের আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি উদ্বেগজনক

  • ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে দুই গবেষণায় গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার ভয়াবহ চিত্র
  • এনআইসিইউতে সংক্রমণ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৮৬% পর্যন্ত মৃত্যুহার কমানো সম্ভব
  • হাত ধোয়া ও অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

দেশের আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি উদ্বেগজনক
২৫ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৪  

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সহজে চিকিৎসা করা যায় না এমন ওষুধ-প্রতিরোধী (ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর দুটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় জীবাণুমুক্ত থাকা রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কালচার পরীক্ষায় এই ভয়াবহ সংক্রমণের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীদের ৯০ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুটি মর্যাদাপূর্ণ সাময়িকী 'মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম' এবং 'অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল'-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য সামনে এনে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ২৫ জুলাই গবেষণার তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

ঢাকার একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি থাকা ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এবং এনআইসিইউতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি থাকা ৩৬৩ জন নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণা দুটি চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর অর্থায়নে এই অনুসন্ধানে চারটি প্রধান গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া—এশেরিশিয়া কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ে, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা-এর ওপর মূল নজর দেওয়া হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৪৮.৫ শতাংশ রোগীর অন্ত্রে এই চিকিৎসা-কঠিন ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভর্তির সময় মুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জন (৫৩ শতাংশ) আইসিইউ চলাকালীন নতুন করে সংক্রমিত হন। সীমিত অবকাঠামো, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং হাসপাতাল-সম্পর্কিত নোসোকোমিয়াল ইনফেকশন এই ভয়াবহ মৃত্যুহারের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যে জীবন বাঁচাতে পারে তার প্রমাণ মিলেছে দ্বিতীয় গবেষণায়। ডব্লিউএইচও (WHO)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী এনআইসিইউতে সাত মাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (IPC) জোরদার করায় প্রতি ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ ২৮ জন থেকে কমে মাত্র ৪ জনে নেমে আসে (৮৬ শতাংশ হ্রাস)। একই সাথে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি ১০০ জনে ২৬ জন থেকে কমে মাত্র ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক আইসিডিডিআর,বি-এর সহকারী বিজ্ঞানী ড. গাজী মো. সালাহউদ্দীন মামুন এবং সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ জানান, হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ল্যাব পরীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, হাসপাতাল থেকে নীরবে ছড়ানো জীবাণুই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, নিয়মিত হাত ধোয়া, হাসপাতালের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত রাখা, অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
//ডিবিটেক/বিটিও/ইডিপি//