মেমোরি সংকটে দাম বাড়ছে সব পিক্সেল ডিভাইসের
স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বাজারে আসার আগেই নিজস্ব ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন 'পিক্সেল ১১' সিরিজের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজই নয়, বাজারে থাকা বর্তমান পিক্সেল ১০এ-সহ অন্যান্য ডিভাইসের দামেও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ
গুগলের ডিভাইস ও সার্ভিস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল বারকাত সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে মেমোরি চিপের দাম যেভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।
মরগান স্ট্যানলির গবেষণা তথ্যের পরামিতি উল্লেখ করে শাকিল বারকাত জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১ গিগাবাইট র্যামের উৎপাদন খরচ ২ ডলার ৮০ সেন্ট থেকে লাফিয়ে প্রায় ১২ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। এতদিন গ্রাহকদের সুরক্ষার কথা ভেবে গুগল নিজেরা এই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করে আসছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বাস্তবতার কারণে দাম সামঞ্জস্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই বলে জানান এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
দাম ও স্পেসিফিকেশনে যে পরিবর্তন আসতে পারে
আগামী ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে গুগলের বহুল প্রতীক্ষিত পিক্সেল ১১ সিরিজ। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট করে কত ডলার দাম বাড়ছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন পিক্সেল ১১ প্রিমিয়াম মডেলগুলোর দাম আগের সংস্করণের চেয়ে অন্তত ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, বেসিক পিক্সেল ১১ ও পিক্সেল ১১ প্রোর দাম সমন্বয় করতে প্রতিষ্ঠানটি ১২৮ গিগাবাইটের প্রারম্ভিক মডেলটি বাদ দিয়ে সরাসরি ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজ থেকে বিক্রি শুরু করতে পারে। এতে সাধারণ ক্রেতার প্রাথমিক কেনাকাটার খরচ কিছুটা বেশি মনে হলেও তুলনামূলক বেশি স্টোরেজ পাবেন তারা। আবার হার্ডওয়্যার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পিক্সেল ১১ প্রোর র্যামের পরিমাণ ১৬ গিগাবাইট থেকে কমিয়ে ১২ গিগাবাইট করা হতে পারে।
তবে ক্রেতাদের কেনাকাটায় স্বস্তি দিতে আকর্ষণীয় কিছু ক্যাশব্যাক, পুরনো ফোন পরিবর্তনের সুযোগ বা 'ট্রেড-ইন' অফার রাখার কথা জানিয়েছে গুগল। পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকেও এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন কম মেমোরি ব্যবহার করেও ফোনটি দ্রুত ও মসৃণভাবে কাজ করতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: জিএসএম এরিনা





