খুবির নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা
- খুবির নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিন কর্মী আটক
- বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বন্ধ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম
- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্যে বিরত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসান (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ক্যান্টিন মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে একাধিক গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রীও অবগত ছিলেন বলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেন। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অতীতের যৌন হয়রানির অভিযোগগুলোরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ বিষয়ে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।
//ডিবিটেক/ইউএস/এসএমই//





