নিশ্চিত করলেন বাকৃবির গবেষকরা
দেশের গবাদিপশু ও পোষা প্রাণী থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নেই
দেশের জনস্বাস্থ্য ও পশুপালনের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে থাকা দেশের গবাদিপশু এবং পোষা কুকুর-বিড়ালের শরীরে প্রাণঘাতী সার্স-কোভ-২ (কোভিড-১৯) ভাইরাসের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশের গবাদিপশুপাখি থেকে মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে বলে নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘জার্মান জার্নাল অফ মাইক্রোবায়োলজি’-তে সম্প্রতি এই গবেষণা প্রতিবেদনটি একটি স্বল্প-প্রবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
মহামারির শুরুতে ভাইরাসের উৎস নিয়ে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২১ সালে এই অনুসন্ধান শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) অর্থায়নে এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান। গবেষক দলে আরও ছিলেন প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভিন এবং মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল প্রতিক সিদ্দিক।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করে দেশের আটটি জেলা—ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ এবং রাজশাহী থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষকদলটি মাঠপর্যায়ের মোট ১,০২৮টি প্রাণীর রক্ত, মল ও নসিকার সোয়াব পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ছিল ৫৫২টি গরু, ১৩৫টি ভেড়া, ১১২টি ছাগল, ১১৮টি বিড়াল এবং ১১১টি কুকুর। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৪৬৫টি মলের নমুনা, ৩৬৩টি নাকের সোয়াব এবং ২০০টি রক্তের সিরাম ল্যাবরেটরিতে আরটি-কিউপিসিআর (RT-qPCR) এবং অ্যান্টিবডি টেস্ট—উভয় পদ্ধতিতে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
পরীক্ষাগারে আরটি-কিউপিসিআর পরীক্ষার জন্য চীনের 'সানশিওর বায়োটেক'-এর কিট ব্যবহার করে ভাইরাসের ওআরএফ১এবি (ORF1ab) এবং এন জিন শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি রক্তের সিরামে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার 'সুজেনটেক'-এর এসজিটিআই-ফ্লেক্স আইজিএম/আইজিজি কিট ব্যবহার করা হয়। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, সবকটি পরীক্ষার ফলাফলই শতভাগ নেগেটিভ আসে এবং কোনো প্রাণীর শরীরেই ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।
এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের পশুপালন খাত ও মহামারি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভাইরাসের চরিত্র পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই ভাইরাসের রূপান্তর বা নতুন কোনো স্ট্রেইনের ঝুঁকি এড়াতে পশুপাখির ওপর নিয়মিত নজরদারি ও গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সাথে, কোভিড আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের পোষা বা গৃহপালিত প্রাণীর সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপরও গবেষকদলটি গুরুত্বারোপ করেছেন।
//ডিবিটেক/আরাফাত হোসাইন/ এমইউআইএম//





