অ্যাপে সংযুক্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, গণমাধ্যমগুলোর নিজস্ব ফ্যাক্টচেক ইউনিট খোলার তাগিদ

অ্যাপে সংযুক্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, গণমাধ্যমগুলোর নিজস্ব ফ্যাক্টচেক ইউনিট খোলার তাগিদ
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:১৬  

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার চিহ্নিত করতে গণমাধ্যমগুলোতে নিজস্ব ফ্যাক্ট চেক ইউনিট চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও দায়িত্বপালনকারীদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা দিয়ে সেগুলো অ্যাপে সংযুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

প্রেস সচিব জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করছে, যা নির্বাচনের সময় দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। সারাদেশে প্রায় ৩২ হাজার পূজামণ্ডপ এই অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাপিড রেসপন্স পাঠানো সম্ভব হয়েছিল।  নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে। এর ফলে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও র‍্যাপিড রেসপন্স টিম পাঠানো সম্ভব হবে।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রের চেয়েও সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ- এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পোস্ট করার পর সেটি মুছে ফেললেও পরদিন আবার নতুন আইডি খুলে একই ব্যক্তি তা ছড়াতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলাই এবারের নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের মিশনপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকেও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের অপপ্রচার হচ্ছে তা মোকাবিলায় গণমাধ্যমের নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট চালু করা খুবই জরুরি। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ১১ জানুয়ারি (রবিবার) অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এমনটাই তাগিদ দেন তিনি। এসময় উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন, টিকটকে ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি। এত বিশাল প্ল্যাটফর্মে দুই-একটি ভুল তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। উপরন্তু ফেসবুক, টিকটক বা মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকে সব সময় দ্রুত ও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইরে থেকে কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে এবং সে বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার শনাক্ত করে সতর্কবার্তা (অ্যালার্ট) দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা সংঘবদ্ধভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চলছে। তবে এক্ষেত্রে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এটা সামাজিক দায়িত্বের বিষয়। সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াগুলোকে আহ্বান জানাবো—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের অপপ্রচার হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট চালু করা খুবই জরুরি।

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিটি ডিভিশন এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ বিষয়ে কাজ করছে। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল হওয়ায় কাজটি অত্যন্ত জটিল।

ডিবিটেক/জেএনও/ইকে