কে সই করলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা

এআই ব্যবহার নিয়ে ৮৯তম দেশ হিসেবে নয়াদিল্লী ঘোষণায় বাংলাদেশ 

এআই ব্যবহার নিয়ে ৮৯তম দেশ হিসেবে নয়াদিল্লী ঘোষণায় বাংলাদেশ 
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:০০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহার ও এর সুফল বিশ্বজুড়ে সমবণ্টনের লক্ষ্যে সদ্য শেষ হওয়া ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ সম্মেলনের গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। আর নয়াদিল্লি ঘোষণায় সই করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে এক কাতারে শামিল হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সূত্রে প্রকাশ, নয়াদিল্লি ঘোষণা সমর্থন করা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তালিকায় অক্ষর বিন্যাসে শুরুতেই ৫ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। সম্মেলনের গৃহীত এআই ইমপ্যাক্ট নয়াদিল্লি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে ৯১টি দেশ। স্বাক্ষরকারী দেশের মধ্যে ৮৯তম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও এই সম্মেলনে কে বা কোন কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষর করেছে তা জানা যায়নি।

ভারতের আকশাবাণী রেডিও এবং নিউজঅনএয়ার সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশ ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ সম্মেলনের গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণায় সই করার ফলে এখন থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই ঘোষণা একটি মাইলফলক, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি কমিয়ে এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বড় ভূমিকা রাখবে। 

নিউজ ১৮ এর খবরে বলা হয়েছে, গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (AI Impact Summit 2026) শেষে গৃহীত নিউ দিল্লি ঘোষণা-তে (New Delhi Declaration) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এআই উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করল। 

এই ঘোষণার অন্যতম প্রধান দিক হলো ভারতের প্রস্তাবিত AI for All বা ‘সবার জন্য এআই’ রূপকল্পকে সমর্থন করা। বাংলাদেশ এই উদ্যোগের অংশীদার হয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই রূপকল্পের মূল ভিত্তি হলো ইক্যুইটি (ন্যায্যতা), প্রবেশাধিকার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান এই সমর্থন জানিয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি খবরে। শুধু বলা হয়েছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় এআই বিপ্লবের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। ৮৯টি স্বাক্ষরকারী দেশ এখন থেকে বিশ্বস্ত এবং স্থিতিস্থাপক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ দেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির ভারত মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬। সম্মেলনে ১০০ টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২০ জনেরও বেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং ৬০ জন মন্ত্রী ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই গৃহীত হয় এআই ইমপ্যাক্ট ঘোষণা। এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে এআইয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনের ঘোষণায় সবার কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল শুধু উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমগ্র মানবজাতির কাছে সমানভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।

ডিবিটেক/এসএ/ইকে