ভারতে এআই সম্মেলনে ‘শার্ট খুলে’ মোদী-বিরোধী বিক্ষোভ
১৬–২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হলো এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
তবে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর থেকেই নানা অব্যবস্থাপনা এবং একটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চীনা রোবটকে নিজেদের তৈরি দাবি করা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। সম্মেলনে যাওয়ার কথা থাকলেও ‘এপস্টাইন ফাইল’-এ তার নাম আসার পর মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এর সফর বাতিল করে গেটস ফাউন্ডেশন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামিট উদ্বোধন করার পর সেখানে একটি স্টলে চারপেয়ে রোবট কুকুর প্রদর্শন করা হয়। দাবি করা হয়েছিল, ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এটি তৈরি করেছেন। এই সাফল্যকে ভারতের এআই অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে স্বয়ং দেশটির প্রযুক্তি মন্ত্রী একটি পোস্ট শেয়ার করেন।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেটে ফ্যাক্ট-চেকাররা ফাঁস করে দেন যে, রোবটটি আদতে একটি চিনা রোবটিক্স কোম্পানির তৈরি। সেটি ভারতে তৈরি হয়নি। বিতর্ক শুরু হতেই মন্ত্রী তার পোস্ট ডিলিট করেন, ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভেসে যায় ট্রল আর মিমে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এই সামিটে উদ্ভাবনের বদলে হাসির পাত্র হয়ে ওঠে গ্যালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীদের তৈরি করা রোবট বলে দাবি করে একটি চিনা রোবট প্রদর্শনী এবং সামিটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এমন পরিস্থিতে সামিটে প্রকাশ পায় মোদী-বিরোধী বিক্ষোভ। ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার দেশটির পুলিশ বিভাগ জানায়, বিক্ষোভের ওই ঘটনায় ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশের দাবি, সম্মেলনস্থলের ভেতরে ‘শার্ট খুলে প্রতিবাদ’ করে সরকার ও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন ভারতীয় যুব কংগ্রেস (আইওয়াইসি)–এর কয়েকজন কর্মী। তাদের টি-শার্টে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ছিল।
গ্রেফতার চারজন হলেন—কৃষ্ণ হরি (বিহার থেকে যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক), কুন্দন যাদব (বিহার রাজ্য সম্পাদক), অজয় কুমার (উত্তর প্রদেশের রাজ্য সভাপতি) এবং তেলেঙ্গানার নরসিমা যাদব। তাদের পাটিয়ালা হাউজ কোর্টে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা নিরাপত্তাকর্মী ও দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান। এ ঘটনায় বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে প্রায় ১৫ জনকে আটক করে তিলক মার্গ থানায় নেওয়া হয়। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কংগ্রেসকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, সাবেক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ইন্ধনে ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ‘হট্টগোল’ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে ভারতীয় যুব কংগ্রেস জানায়, তারা এআই সম্মেলনের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের স্বার্থবিরোধী আপসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তাদের দাবি, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে; ফলে সম্মেলনের ভেতরেই তারা অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পোস্টে তারা আরও বলে, ‘দেশের কৃষক ও যুবকদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হলে আমরা চুপ থাকবো না।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করেছিলেন। তারা জ্যাকেটের নিচে আপত্তিকর লেখা-ছাপা টি-শার্ট পরে হলে প্রবেশ করেন। পরে হল নম্বর ৫–এর লবির কাছে জ্যাকেট খুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঘটনার পর সম্মেলনস্থলের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদারের করে দিল্লি পুলিশ।
ডিবিটেক/এনএ/ইকে







