আপনারা আমাকে কুমিরের খাঁচায় ছেড়ে দিয়েছিলেন

আপনারা আমাকে কুমিরের খাঁচায় ছেড়ে দিয়েছিলেন
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৪২  

শপথ নেয়ার পর বেশ কর্মব্যস্ত প্রথম কার্যদিবস পালন করলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব তার কাঁধেই। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সচিবালয় থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটির টাওয়ারের অফিস করেছেন। 

এই দুই জায়গাতেই তার আগে দুইজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের মধ্যে একজন জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার মামলায় জেলবন্দি। অপরজন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। মেয়াদ শেষের লগ্নে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে বসবাসরত পরিবারের কাছে। তবে তাকে ঘিরে  এই চলে যাওয়া নিয়ে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে তীর্যক মন্তব্য শুরু হয়। 

সেসব প্রশ্নের জবাবে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে বেশ সরব তিনি। ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯ টার দিকে একটি পোস্ট করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

সমালোচকদের উদ্দেশে পোস্টে তিনি লিখেছেন- আপনারা যখন আমার তীব্র সমালোচনা করেন, তখন আমার কাছে দুটা অনুভূতি হয়।

‘আমি বেশ কিছু সংস্কার পুশ করেছি, যথেষ্ট কাজ করেছি এবং নতুন অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। যে লোকে কাজ করেনা, এ জগতে তার কোনো সমালোচনা নাই।’
এর পর সমালোচকদের ‘আপনারা বড়ো পাষাণ হৃদয়’ সম্বোধন করে এই প্রকৌশলী ও লেখক লিখেছেন, ‘এই যে দুই শীর্ষ দুর্বৃত্তের খোয়াড়ে থাকা মন্ত্রণালয়ে আমাকে বসাইছেন, এক বারও কি ভাবেন! যে তারা কি পরিমাণ সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী, লবিস্ট/তদবিরকারী/টেন্ডারবাজ, কনসাল্ট্যান্ট, কর্মকর্তা, স্যাবোটাজ সৃষ্টিকারী এবং পোষা সাংবাদিক এখানে রেখে গেছে। আপনারা আমাকে কুমিরের খাঁচায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিদারুণ যন্ত্রণা, অযাচিত চাপ, ক্রমাগত মিথ্যা অপবাদ, রটনা এবং একের পর এক স্যাবোটাজে আমি রাতের পর রাত ঘুমাতে পারিনি। অথচ যারা আমার কাছে এসেছেন তারা জানেন আমি কারও কাছে কিছু চাইনি। সৎ ও ট্রান্সপারেন্ট থাকতে গিয়ে আপনাদের অবদার রাখতে পারিনি।’
‘আমাকে কী পরিমাণ ফায়ার ফাইটিং করতে হয়েছে, একবারও কি গভীরভাবে ভেবেছেন!’- যোগ করেন ফয়েজ। 
পোস্টের শেষে স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘দুঃসময়ে আপনাদের অনেককেই পাশে পেয়েছি। নাইলে এই ভারী বোঝা আমি বইতে পারতাম না। আপনাদের জন্য আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা আজীবন!’
ডিবিটেক/এফবিপি/এমইউএম