আই হ্যাভ এ প্লান ফর মাই কান্ট্রি
দেড় যুগ পড়ে দেশে ফিরে বিখ্যাত আফ্রিকান আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং এর ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ এর সমান্তরালে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বললেন, ‘আই হ্যাভ এ প্লান ফর মাই কান্ট্রি’। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে সবাইকে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য ধরে’ দেশের আইন-শৃঙ্খল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জনিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘সবাইর মিলে কবরো কাজ, গড়বো নিরাপদ বাংলাদেশ’।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বার বার ‘আল্লাহর রহমত’ কামনা এবং ‘হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ’ উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়বেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে নারী-পুরুষ ও শিশু নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ঘরে ফিরে আসতে পারেন। নবী করিম সা. এর ন্যায় পরায়নতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনা করব।’ লাখো জনতার উদ্দেশে বলেছেন, আমরা দেশে শান্তি চাই, আমরা দেশে শান্তি চাই, আমরা দেশে শান্তি চাই।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান যখন বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও একসময়ের বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মঈন খান ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য দেয়ার আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। .
আর বক্তব্যে তারেক জিয়া বলেন, যদি আল্লাহর রহমত এ দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য; আল্লাহর দয়া; এ দেশের মানুষের ওপরে; এ দেশের ওপরে থাকে; ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এ ছাড়া কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছে। এই মানুষগুলোর রাষ্ট্রের কাছে আকাঙ্ক্ষা আছে। আজ আমরা যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই তাহলে এই লাখো, কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।’ ‘আল্লার অশেষ রহমতে সবার কঠোর পরিশ্রমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আর যদি আল্লাহ এই দেশ এবং মানুষের পক্ষ থাকেন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’ -যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল; ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদরাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন।’
‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছে। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই মানুষগুলোর সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ,’ যোগ করেন তিনি।
ডিবিটেক/আইএইচ/ইক







