ডিজিটাল ব্যাংকের মূলধনের সীমা ছাড়ালো দ্বিগুণের বেশি

ডিজিটাল ব্যাংকের মূলধনের সীমা ছাড়ালো দ্বিগুণের বেশি
২৪ আগষ্ট, ২০২৫ ১৭:৪৩  
২৪ আগষ্ট, ২০২৫ ২২:০৬  

ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের সীমা ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ২৪ আগস্ট, রবিবার এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স (অনুমোদন) দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে এই নির্দেশনা বলে জানাগেছে। 

এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ছিল ১২৫ কোটি টাকা। তবে প্রচলিত ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে প্রয়োজন হয় ৫০০ কোটি টাকা। 

নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদনের পাঁচ বছরের মধ্যে আনতে হবে আইপিও। ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান করা হবে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায়। আর পেমেন্ট সার্ভিস পরিচালিত হবে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশনের অধীনে। ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার জন্য প্রধান কার্যালয় থাকবে। তবে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এটি হবে স্থাপনাবিহীন। অর্থাৎ এই ব্যাংক কোনো ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) সেবা দেবে না। ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব কোনো শাখা বা উপশাখা, এটিএম, সিডিএম অথবা সিআরএমও থাকবে না। সব সেবাই হবে অ্যাপ–নির্ভর, মোবাইল বা ডিজিটাল যন্ত্রে।

একটি ডিজিটাল ব্যাংকে দিন–রাত ২৪ ঘণ্টাই সেবা মিলবে। গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ডিজিটাল ব্যাংক ভার্চ্যুয়াল কার্ড, কিউআর কোড ও অন্য কোনো উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য দিতে পারবে। কিন্তু প্রচলিত ব্যাংকের মতো লেনদেনের জন্য কোনো প্লাস্টিক কার্ড দিতে পারবে না।

তবে এই ব্যাংকের সেবা নিতে গ্রাহকেরা অন্য ব্যাংকের এটিএম, এজেন্টসহ নানা সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না। বড় ও মাঝারি শিল্পেও কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। শুধু ছোট ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবনা (আইপিও) আনতে হবে। আইপিওর পরিমাণ অবশ্যই উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক বিনিয়োগের ন্যূনতম সমান হতে হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিং হলো অনলাইন ব্যাংকিংয়ের একটি বৃহত্তর অংশ, যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সময়ে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো প্রচলিত ‘ব্রিক অ্যান্ড মর্টার’ ব্যাংক থেকে সরে গিয়ে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান ২০২২ সালে ডিজিটাল ব্যাংক চালু করেছে। এই ব্যাংক খুলতে নগদ ও কড়ি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েও এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।