মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ মিছিল

মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ মিছিল
১১ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৪৮  
১২ জুলাই, ২০২৫ ০৭:১০  

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিডফোর্ড হাসপাতাল) ৩ নম্বর ফটকের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে পিটিয়ে ও পাথর  মেরে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‎১১ জুলাই, শুক্রবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হল-১ এর প্রধান ফটকের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা 'যুবদলের অনেক গুন, পাথর মেরে করে খুন', 'আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ', 'চাঁদাবাজের ঠিকানা এই বাংলায় হবে', 'আবার হলে শোষণ, শুরু হবে একশান', 'যুবদলের চাঁদাবাজরা, হুঁশিয়ার সাবধান', 'লেগেছে, লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে' ইত্যাদি স্লোগান দেন।

‎বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যবসায়  প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো: মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা এই রকম নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখেছিলাম ২০১২ সালে কিভাবে  প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বজিৎকে  ছাত্রলীগ  কুপিয়ে মেরেছিল। এখন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছে যুবদল। প্রকাশ্যে মিডফোর্ডে পাথর দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি তার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। আবার যদি ফ্যাসিবাদ জন্মানোর চেষ্টা করে, আমরা ছাত্র সমাজ যেভাবে হাসিনাকে পতন করেছি সেইভাবে নতুন ফ্যাসিবাদকে রুখে দিবো। 

তিনি আরও বলেন, "এই সংগঠন নিজেরাই নিজেদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা দেশবাসী আশঙ্কায় আছি—যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তবে দেশবাসী এক নব্য ফ্যাসিস্ট শাসনের শিকার হবে। তাই আজকের জমায়েত থেকে আমরা ঘোষণা দিচ্ছি, যদি কোনো স্বৈরাচার আবারও ফিরে আসে, আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও তাকে রুখে দেব।”

ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখেছি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর কীভাবে লগি-বৈঠার মাধ্যমে মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। আমরা আর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। বাংলার ছাত্রসমাজ আজ সোচ্চার। সোহাগ ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তারা যে দলেরই হোক, তাদের দ্রুত বিচার করে বাংলার মাটিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”