সেমিকন্ডাক্টর জাতীয় টাস্কফোর্সের সুপারিশকে স্বাগত জানালো বিএসআইএ

সেমিকন্ডাক্টর জাতীয় টাস্কফোর্সের সুপারিশকে স্বাগত জানালো বিএসআইএ
৬ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৩  
৬ জুলাই, ২০২৫ ২০:৫৭  

নকশা, ফেব্রিকেশন ও টেস্টিং- তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্স। এটি গত ৩ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় ২০২৫-২৬ সালের জন্য স্বল্পমেয়াদী সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-একটি ভার্চুয়াল নলেজ পোর্টাল চালু করা, যেখানে বিশ্বমানের এবং শিল্প-সমর্থিত কারিকুলামের ভিত্তিতে স্তরভিত্তিক সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম থাকবে। ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচটি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিল্প মানের প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন। 

সেই সুপারিশমালাকে স্বাগত জানিয়ে ৬ জুলাই, রবিবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)। এতে টাস্কফোর্সের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়ে বিএসআইএ নেতৃবৃন্দ বলেন, সুপারিশমালায় সরকারি নীতিনির্ধারক, একাডেমিয়া, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দেশের জনশক্তি ও চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং ক্ষেত্রে বিকাশমান সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিএসআইএ কর্তৃক পূর্বে প্রস্তাবিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বিবেচিত ও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।

এছাড়াও ৪টি সুপারিশের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিএসআইএ। সেগুলো হলো- ল্যাব অবকাঠামো ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের সহযোগিতায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি; ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সহায়তা বা মেয়াদি অর্থায়ন প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি Òসেমিকন্ডাক্টর ফান্ড" প্রতিষ্ঠা; প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ বছর মেয়াদে কর অবকাশ সুবিধা এবং ৪) বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের শক্ত অবস্থান তৈরি করা। 

তবে বর্ণিত সুপারিশমালায় অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের মতো সেমিকন্ডাক্টর খাতেও রপ্তানি আয়ের উপর নগদ প্রণোদনা প্রদানের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে নতুন এই সংগঠনটি। সুপারিশমালাটি স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানসমূহের আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএসআইএ।  

 জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্স-এর সুপারিশমালা প্রসঙ্গে বিএসআইএ সভাপতি মো. আবদুল জব্বার বলেন, Òজাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বিএসআই-এর কয়েকজন সদস্য সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সুপারিশমালা প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, এজন্য আমরা আনন্দিত। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে মিলিতভাবে একটি প্রাণবন্ত সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিএসআইএ বদ্ধপরিকর। আমরা টাস্কফোর্সের সকল সদস্য এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই সুপারিশগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পখাত হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।"

০৬-জুলাই/ডিজিবিটেক/এনডি