ক্ষুদ্র-কুটির উদ্যোক্তাদের আরবে ব্যবসা সম্প্রসারণের পথ দেখালো শপআপ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী কোম্পানি ‘সারি’-এর সঙ্গে একীভূত হয়ে বিদেশের মাটিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মধ্য দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে বাংলাদেশের হোলসেল মার্কেট প্ল্যাটফর্ম শপআপ। গত মাসেই দেশটিতে সারির সঙ্গে একীভূত হয়ে গঠন করেছে ‘সিল্ক’ গ্রুপ। নতুন গ্রুপ গঠনের পরপরই ১১ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমন বাস্তবতার মধ্যমে শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিনে কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে উদ্যোক্তা জীবনের ব্যবসায়িক ইনসাইট তুলে ধরে বাংলাদেশী ব্র্যান্ডগুলিকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচকপাত করেন শপআপ বাংলাদেশের সিইও আতাউর রহিম চৌধুরী এবং সিল্ক গ্রুপের সিইও আফীফ জামান।
দু’জনের মধ্যে আতাউর রহিম শপআপের প্রাথমিক যাত্রার বিষয় তুলে ধরেন এবং আফীফ সৌদি আরবে শুরু করা বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম সারি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, দেশের ছোট উদ্যোক্তারাও যাতে সৌদিআরবে তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির সুযোগ পান, সেই পথ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ। প্লাটফর্মটির মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা সৌদি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে তাদের পণ্য পাঠাতে পারবেন ঘরে বসেই। এটা বাংলাদেশের জন্য বিদেশে নতুন বাজার খুলে দেবে।
সৌদি আরবের একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমানও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আলোচনায় তিনি কীভাবে শপআপের প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে সৌদিআরবের বাজারে তার নিজস্ব ব্র্যান্ডের মুড়ি ‘আনাস’ বাজারজাত করেছেন তা শেয়ার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিঃ মিচেল লিও। সমাপনী বক্তব্য দেন শপআপের সভাপতি মামুন রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, স্টার্টআপদের এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫০০ কোটি টাকার কো-ফাইন্যান্সিং ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। অচিরেই ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের এই তহবিল থেকে ৬-৯ বছর মেয়াদী বিনিয়োগ করা হবে। স্টার্টআপে দেশী বিনিয়োগ অবশ্যই বড় একটা ইস্যু। পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দেশে আনা চ্যালেঞ্জিং। তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আমরা সচেষ্ট আছি। আমরা এখানে ক্যাটালিস্টের ভূমিকা পালন করছি। স্টার্টআপদের চলার পথের রসদ যোগাতে ভেঞ্চর টাইপ ইনভেস্টমেন্ট দরকার। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছে। তাই প্রযুক্তিতে আমাদের এগিয়ে থাকতে হবে। প্রযুক্তি ছাড়া কোনো স্টার্টআপই টিকে থাকতে পারবে না।







