কঠোর লকডাউনে চলবে টেলিকম সেবা, বাদ পড়েছে সফটওয়্যারখাত

১২ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৩৪  
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে সারাদেশে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। ওই দিন ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে কঠোর লকডাউন। আসন্ন লকডাউনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগখাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হলেও সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে নেই সফটওয়্যারখাত বিষয়ক কোনো নির্দেশনা। সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে যুক্ত সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই বিধি-নিষেধের বাইরে রাখার পাশাপাশি অনলাইন বা অফলাইনে দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাবার দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের আগে সফটওয়্যার খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনে নেই কোনো নির্দেশনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেছেন, সবকিছুই চলছে সফটওয়্যার ও আইটির উপরে। ফলে আসন্ন লকডাউনে সফটওয়্যার খাত তথা জনগণের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, 'এ লকডাউনে সফটওয়্যার খাতে অবশ্যই প্রভাব পড়বে। তার থেকেও বড় প্রভাব পড়বে জনগনের উপরে। কারণ সবকিছুই চলছে সফটওয়্যার ও আইটির উপরে তখন তো এগুলো চলবে না। ব্যাংক, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছুই চলে আইটির মাধ্যমে।' নতুন নির্দেশনাটি প্রযুক্তি সেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, 'সরকার জানে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে অনেক বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই আমরা আশা করি আইসিটি বিভাগ এ সেক্টরকে লকডাউনের বাহিরে রাখবে। আমরা আগেই সরকারের কাছে জরুরি সেবার আওতায় রাখতে চিঠি দিয়েছি।' প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লকডাউন চলার সময় জরুরি সেবা ছাড়া, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সকল পরিবহন (সড়ক, রেল, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে  বন্ধের সময় এ সব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে শিল্প কলকারখানা। প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করতে হবে। এতে আরো বলা হয়, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকাকার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা নিতে যাতায়াত করা যাবে।