ইন্টারনেট চালু রাখতে ইমার্জেন্সি নেটওয়ার্ক প্রটোকল তৈরির দাবি
টেলিকম ও আইটি খাতের মোট ক্ষতি ১৮ হাজার কোটি টাকা
ইন্টারনেট ও তারুণ্যের মেধায় গড়ে ওঠা দেশের টেলিকম ও আইটি খাতে বিগত ১০ দিনে ১৮ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট যেনো কখনও বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য ইমার্জেন্সি নেটওয়ার্ক প্রটোকল স্থাপন ও বিজনেস কন্টিনিউয়েশন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে ‘তরুণ প্রজন্মের আস্থা ও বিশ্বাস’ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিলে থাকা হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে অনূর্ধ্ব ৪ শতাংশ সুদে ব্যবসায়িদের ঋণ সুবিধা প্রদান এবং কর্মসংস্থানের ঝুঁকি মোকাবেলার উদ্যোগ নেবে সরকার।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং নিরবচ্ছিন্ন টেলিকম সেবা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত, সন্ত্রাসী হামলার ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্টেক হোল্ডার বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব এবং সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. মু. মুশফিকুর রহমানের সভাপত্তিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় মোবাইল ফোন অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) মহাসচিব মোহাম্মাদ জুলফিকার, বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক, ই-ক্যাব জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন শিপন, বাক্কো উপদেষ্টা আহমাদুল হক ববি এবং টেলিযোগাযোগ ও বিএফডিএস খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনায় জানতে পেরেছি সামগ্রিক ভাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি খাতে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার। এই খাতের বেশির ভাগই বিদেশী বাজার নির্ভর। এই অবকাঠোমো ও ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশী গ্রাহকদের কাছে ভাব মর্যাদা বিনষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ও নীতিগত সহায়তা নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে আমরা একটি ইমার্জেন্সি ইন্টারনেট প্রোটকল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সাবমেরিন ক্যাবলের ৭২০০ জিবিপিএস সক্ষমতা থেকে ইন্টারনেট নির্ভর ব্যবসায় সচল রাখতে করণীয় বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তাদের আবেদন ও যৌক্তি দাবি পূরণের আশ্বাস দিচ্ছি।
পলক আরো বলেন, দেশের ৭ লাখ ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে এবার ব্যক্তি পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ইনসেনটিভ দিতে চাই। এজন্য আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছি এবং একটি ম্যাকানিজম তৈরি করছি। আশা করছি দ্রুতই একটি ইতিবাচক সাড়া পাবো।
গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম আরো কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সঙ্কটকালীন সময়ে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে, ইন্টারনেট যেনো কখনোই বাংলাদেশে ব্যহত না হয়। সেজন্য সাবমেরিন থেকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে কতটুকু ওভারহেড হবে এবং এই ওভারহেড ক্যাবলের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি।





