১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ৩১ অক্টোবর

খুলনা: গণভোটে প্রাপ্ত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, দিন দিন অবক্ষয়মুখী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, চরম আকার ধারণ করা জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নাগালের বাইরে চলে যাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ অত্যন্ত সময়োপযোগী সাত দফা দাবিতে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ। লংমার্চ উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিববাড়ী মোড়) […] The post ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ৩১ অক্টোবর first appeared on Saraban

১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ৩১ অক্টোবর
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০  

খুলনা: গণভোটে প্রাপ্ত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, দিন দিন অবক্ষয়মুখী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, চরম আকার ধারণ করা জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নাগালের বাইরে চলে যাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ অত্যন্ত সময়োপযোগী সাত দফা দাবিতে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ।

লংমার্চ উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিববাড়ী মোড়) এবং পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে দুটি পৃথক ও বৃহৎ পথসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পর রূপসা ও ভৈরব তীরের এই শিল্পনগরীতে বিরোধী জোটের এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী রাজপথের মহড়া। পথসভা দু’টিকে ঘিরে এরই মধ্যে জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম।

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পর খুলনায় বিরোধী জোটের অন্যতম বড় কর্মসূচি হতে যাচ্ছে এটি। বিশেষ করে সংসদে বিরোধী জোটের অবস্থান, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের প্রতি সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা এই লংমার্চ থেকে উঠে আসতে পারে। ফলে লংমার্চটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা মহানগরী সমন্বয়কারী ও মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম জানান, ইতোমধ্যে লংমার্চ ও পথসভা বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার একাধিকবার প্রস্তুতি সভা করেছে। প্রস্তুতি সভায় মঞ্চ নির্মাণ বিভাগ, সাউন্ড বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ, শৃঙ্খলা বিভাগ, মেহমান বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, ডেকোরেশন বিভাগ, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ, অফিস বিভাগ, মিডিয়া বিভাগ, আইটি বিভাগ, তথ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগ, অর্থ বিভাগ, পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয় বিভাগসহ ১৭টি উপ-কমিটির প্রস্তুতির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। লংমার্চ ও পথসভা সফল করতে পঞ্চাশ হাজারের বেশি পোস্টার, তিন লাখের বেশি লিফলেট, দুই সহস্রাধিক ফেস্টুন, সহস্রাধিক প্লাকার্ড, শতাধিক বিলবোর্ড, পাঁচ শতাধিক ব্যানার, শতাধিক ড্রপ ডাউন, সহস্রাধিক জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়েছে। আর নেতৃবৃন্দদেরকে স্বাগত জানিয়ে রূপসার কুদির বটতলা, রূপসা সেতু, জিরোপয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, বৈকালী মোড়, নতুন রাস্তা মোড়, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি, অফিলগেট, পথেরবাজার, ফুলতলা থানা সামনেসহ মোট ২০টি তোরণ নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাবরী চত্বর থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বাবরী চত্বর থেকে ময়লাপোতা হয়ে সোনাপোতা স্কুল, বাবরী চত্বর থেকে নিউমার্কেট, বাবরী চত্বর থেকে পাওয়ার হাউস মোড় পর্যন্ত বিস্তৃতি থাকবে দুই শতাধিক হর্ন। ফলে গোটা নগরী হবে লংমার্চের পথসভার স্থান। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির আলোচনা। সবমিলিয়ে লংমার্চকে কেন্দ্র করে গোটা নগরী সেজেছে নতুন সাজে। চলছে সাজসাজ রব। নগরবাসী এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সেই ঐতিহাসিক লংমার্চের দিকে। এ লংমার্চ থেকে বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বরে ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠাতব্য পথসভা দু’টিতে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সমাবেশটিতে বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরং দেশের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও প্রত্যাশার পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এই লংমার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাহফুজুর রহমান জানান, সাংগঠনিকভাবে খুলনা মহানগরীর পথসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরীর বাবরী চত্বরের এই পথসভায় লক্ষাধিক লোক সমাগমের পরিকল্পনা রয়েছে। পথসভাকে কেন্দ্র করে শরিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি বাবরী চত্বর পথসভাস্থল হলেও গোটা নগরীই পরিণত হবে সমাবেশস্থলে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও সে রকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লংমার্চ ও পথসভার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করা হয়েছে। তারাও লংমার্চ ও পথসভা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।

খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ উপলক্ষে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর সাড়ে ১২ টায় এ পথসভা শুরু হবে। পথসভাকে কেন্দ্র করে খুলনা জেলার ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। পথসভায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে ইনশাআল্লাহ। সাধারণ মানুষের মাঝে বিরোধী দলের এই কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে তিনি জানান।

 

The post ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ৩১ অক্টোবর first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.