ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্ভাবন পরীক্ষার আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
মশা নিয়ন্ত্রণে দেশীয় প্রযুক্তির ওপর জোর
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নতুন দেশীয় প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষার মাধ্যমে সফল হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক আগের মতো কার্যকর না হওয়ায় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিক পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন।
২০ জুলাই, সোমবার রাজধানীর রমনায় আইইবি ভবনের সেমিনার হলে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ড আয়োজিত "মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার" বিষয়ক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সফল হলে সরকারের মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আরও কার্যকর হবে। এর ফলে বিদেশ থেকে রাসায়নিক আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং লার্ভা নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন দেশীয় প্রযুক্তি যুক্ত হলে মশা নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
দেশীয় উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা এবং সফল প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।
সেমিনারে বাংলাদেশি উদ্ভাবক এম. এ. হামিদ মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; সরকার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কার্যকর ফল অর্জন সম্ভব। নিয়মিত লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপদ প্রযুক্তি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে পরিবারগুলোও নিজেদের পরিবেশে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ভূমিকা রাখতে পারবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, দেশে বহু মেধাবী উদ্ভাবক থাকলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে তাদের উদ্ভাবন বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।
তিনি জানান, উদ্ভাবক এম. এ. হামিদের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেলেও দেশে এখনো তা পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। তাই প্রযুক্তিটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সফল বাস্তবায়ন হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
//ডিবিটেক/বিএনটি/এসআইএম//





