নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদনের কৌশল নিয়ে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ওয়েবিনার
নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদনে ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র। এতে অংশ নেন দক্ষিণ এশিয়ার গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা।
দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ, টেকসই ও সহনশীল পোলট্রি উৎপাদন নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন করেছে সার্কের আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক কৃষি কেন্দ্র। ৮ জুন, সোমবার অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান হেলথ পদ্ধতির আলোকে নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদন’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে সার্ক অঞ্চলের গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
ওয়েবিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদন কেবল খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করার মাধ্যমে ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) পোলট্রি গবেষণা অধিদপ্তরের পোলট্রি নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. শ্যাম সুন্দর পাল। তিনি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগের ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপদ পোলট্রি খাত গড়ে তুলতে উন্নত জৈবনিরাপত্তা ব্যবস্থা, সুষম পুষ্টি ও দায়িত্বশীল খামার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফুড সায়েন্সের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মিস জিয়াউ ই তান পোলট্রি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা ও রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে ঝুঁকি কমাতে প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্যবিদ, গবেষক ও খামারিদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনুস আলী। অনুষ্ঠানে সার্ক সদস্য রাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হন। আয়োজকদের মতে, এই ব্যাপক অংশগ্রহণ নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদন বিষয়ে আঞ্চলিক আগ্রহ, জ্ঞান বিনিময় এবং সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণীজ রোগের বিস্তার এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ওয়ান হেলথ’ ভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার পোলট্রি খাতকে আরও নিরাপদ, উৎপাদনশীল ও টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
//ডিবিটেক





