দেশের সাইবার সুরক্ষায় যে পরামর্শ দিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান
‘দেশের সাইবার আকাশ থেকে পর্নো বা জুয়ার সাইট বন্ধ করতে পারলেও লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডার্সরা অনৈতিক কন্টেন্ট সরাতে পারে না। নারীবিদ্বেষ, ঘৃণা ছাড়ানো, প্রতারণা বা স্ক্যামের মতো কন্টেন্ট সনাক্ত করার মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাদের নেই। ’
এমন পরিস্থিতিতে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর বাংলাদেশে স্থানীয় আইনি প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে আইনি ফাঁকফোকর কমানো; অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা এবং এআই (AI) দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন এমদাদ উল বারী।
৬ মে, বুধবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে দেশের বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক এক আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যে এই প্রস্তাব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্ট মডারেশন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি সরাসরি কোনো কন্টেন্ট ক্ষতিকর কি না তা বিচার করে না, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধে প্ল্যাটফর্মগুলোকে কন্টেন্ট সরানোর নির্দেশ দেয়। গত এক বছরে ৫৭,০০০ কন্টেন্ট সরানোর অনুরোধের মধ্যে ৬৩% সফল হয়েছে, বাকি ৩৭% ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ।
আইনি ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আত্মহত্যা বা শিশু নির্যাতনের মতো বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো ১০০% সহযোগিতা করলেও ভুল তথ্য (misinformation) বা ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার হার মাত্র ৫৬%।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার মতে, নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনে জরুরি ক্ষেত্রে ৩ দিনের মধ্যে বিচারিক অনুমোদন নেওয়ার বিধানটি কারিগরি জটিলতা তৈরি করতে পারে। এজন্য সমন্বয় ও সচেতনতার অভাবকে দায়ি করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের পরিধি ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ জানানোর সঠিক মাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
দৃক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে সাইবার সুরক্ষা ও বাক স্বাধীনতা বিষয়ক এই বহুপক্ষীয় মত বিনিময় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আরও বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো (UNESCO) প্রতিনিধি: ড. সুসান ভাইজ, সুইডেন অ্যাম্বাসির পলিটিক্যাল সেক্রেটারি পাউলো ক্যাসট্রো নেইডারস্ট্রম, ভয়েস ফর রিফর্ম সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিজিডি ই গভঃ সার্ট প্রকল্প পরিচালক মোঃ নাজমুল হক খন্দকার, কনসালটেন্ট তানিমুল বারী, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি হেড ফওজিয়া আফরোজ পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ইউএনডিপি’র সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট শীলা তাসনিম হক, গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউআইএম



