তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে মৃত্যুঝুঁকি কমানোর দাবি চিকিৎসকদের

তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে মৃত্যুঝুঁকি কমানোর দাবি চিকিৎসকদের
১১ মে, ২০২৬ ২০:১৯  

দেশে অসংক্রামক রোগ ও তামাকজনিত মৃত্যুর হার কমাতে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা হলে একদিকে ধূমপান কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

১১ মে, সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের কার্যকর দাম বৃদ্ধি: চিকিৎসকদের বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬–২৭’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল এবং জাতীয় বক্ষব্যাধী ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে এবং প্রায় ১৪ শতাংশ মৃত্যু তামাকজনিত কারণে হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হন। এছাড়া তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে সরকারের অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্রিত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান তামাক কর কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অকার্যকর। চার স্তরের মূল্যব্যবস্থা থাকায় ধূমপায়ীরা সহজেই কমদামি স্তরে চলে যেতে পারেন, ফলে তামাক ব্যবহার কমছে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপান নিরুৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য সংস্কার বাস্তবায়ন হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থ স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ব্যয় করা সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। দাম বাড়ানো হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

ডিবিটেক/জেএনও/ইকে