বছরজুড়ে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন সুবিধা

বছরজুড়ে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন সুবিধা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৮:২৩  

এখন থেকে সারা বছরই অনলাইনের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন করদাতারা। ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার  রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদরদফতরে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাকবাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের দুই সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (এটকো) সঙ্গে এই আলোচনার আয়োজন করে এনবিআর। এসময় দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সারচার্জের পরিবর্তে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ (সম্পদ কর) ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ওপর ‘ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স’ (উত্তরাধিকার কর) আরোপের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। 

সভায় সংবাদপত্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে নিউজপ্রিন্ট আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং কর্পোরেট করহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী। অপরদিকে বিলের ওপর উৎসে কর (টিডিএস) থেকে অব্যাহতি এবং ইউটিউব ও ফেসবুকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত আয়কে রফতানি আয় হিসেবে গণ্য করার দাবি জানান টেলিভিশন স্টেশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর করের চাপ লাভজনক নয়-এমন ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য টেকসই নয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে চেয়ারম্যান জানান, করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বছরজুড়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সময়মতো জমা দিলে করদাতারা কিছু বিশেষ সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, আমরা আবার ওয়েলথ ট্যাক্স অ্যাক্ট (সম্পদ কর) নিয়ে আসতে পারি কি না, যদি ওয়েলথ ট্যাক্স অ্যাক্টটাকে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে ওয়েলদি পিপলদের (সম্পদশালী ব্যক্তিদের) থেকে আমরা ইনকাম ট্যাক্সের বাইরে আরও কিছু ওয়েলথ ট্যাক্স (সম্পদ কর) পাবো সারচার্জের পরিবর্তে। দ্যাট উইল বি হেল্পফুল।

করের আওতা বাড়াতে গোয়েন্দারা কাজ করছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে এনবিআরের টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লাখ, আর বিআইএনধারীর সংখ্যা ৮ লাখ। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা, এবং সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন ২২ হাজার।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে দুর্নীতির পথ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ওভারঅল যে রেভিনিউ এটা আমরা বাড়াতে পারি। আর লিকেজ বন্ধ করতে হবে। আমাদের এই কাজটা আমরা শুরু করেছি। আমরা যদি সুশাসন এস্টাবলিশ করতে পারি প্রত্যেকটা জায়গায়, আমরা যদি আমাদের যারা সৎ, দক্ষ এবং পরিশ্রমী কর্মকর্তা আছে তাদের যদি নার্সিং করতে পারি, এনকারেজ করতে পারি, তাহলে অটোমেটিক্যালি আমাদের রেভিনিউ লিকেজটা কমবে এবং আমরা রেভিনিউ কালেকশন বাড়াতে পারবো।

অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করার কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগে অডিট সিলেকশন প্রসিডিউরের মধ্যেই সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলো পাকানো হতো। আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন বন্ধ করে দিয়েছি। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ২০টা রিস্ক বেজড অডিট ক্রাইটেরিয়া আমরা সিলেক্ট করেছি। ইনকাম ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ এ শতভাগ অনলাইন রিটার্ন হবে। ফলে ডাটার আর কোনো প্রবলেম থাকবে না। 

তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির জন্য ২০ হাজার ইলেকট্রনিক আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, যা আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাটের জন্য গঠিত নতুন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।’

বছরব্যাপী রিটার্ন দাখিল পদ্ধতির কাঠামো ব্যাখ্যা করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আগামী বছর আমরা একটি বড় পরিকল্পনা করছি। আমরা সারা বছর ধরে রিটার্ন দেয়া অব্যাহত রাখব। আমরা বলছি চার কোয়ার্টারে আমরা ভাগ করব। ফার্স্ট কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন দেবেন তাদেরকে আমরা ইনসেন্টিভ দেবো, তারা কিছু রিবেট পাবেন। সেকেন্ড কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন দেবেন তারা রেগুলার। থার্ড কোয়ার্টারে যারা দেবেন তারা রেগুলার থেকে একটু বেশি দেবেন। ফোর্থ কোয়ার্টারে যারা দিবে তারা আরেকটু বেশি দেবেন। সুতরাং ট্যাক্স পেয়াররা ঠিক করবে উনি কী বেশি দিয়ে রিটার্ন দেবেন, না উনি কম দিয়ে রিটার্ন দেবেন, না উনি ডিসকাউন্ট দেবেন। একই জিনিস আমরা করপোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে করব।’

প্রসঙ্গত, সাধারণত প্রতি বছর জুন শেষে নতুন করবর্ষ শুরুর পর নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে চলতি বছর এ সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে বকেয়া করের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করা হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগে কর রিবেট সুবিধাও বাতিল হওয়ার বিধান ছিল। এনবিআর সূত্র জানায়, করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/ডিএইচই/এমইউএম