প্রস্তুত হচ্ছে ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ

প্রস্তুত হচ্ছে ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ
৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৪৫  
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০১  

সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গনে অবস্থিত  মুঘল যুগের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ। এজন্য ২,৩৫,০০০ ডলারের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) অনুদান ঘোষণা করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। 

৩১ মার্চ, মঙ্গলবার মসজিদ প্রাঙ্গনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলমের সঙ্গে যৌথভাবে এই অনুদান ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। 

"Raised Platform Mughal Musa Khan Mosque - এর Restoration and Preservation" শীর্ষক এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, উঁচু বেদীর ওপর নির্মিত এই মুসা খান মসজিদটি আমাদের গৌরবময় মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদটির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য পুরোপুরি বজায় রেখে একে আগের আদি রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমাদের জাতীয় পরিচয় ও একতার প্রতীকগুলোকে টিকিয়ে রাখা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যৌথ উদ্যোগটি আমাদের সাংস্কৃতিক পর্যটনকে এগিয়ে নিতে, গবেষণার সুযোগ বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্য রক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটিকে ভবিষ্যতে অন্যান্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন-কে তার বিশেষ অবদান ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পরিশেষে তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করায় বিশ্বাসী। পারস্পরিক সদিচ্ছা ও ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের U. S. Ambassador Fund for Cultural Presevation(AFCP) এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ২৫ বছরের সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হলো। 

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানান, এই অনুদানের আওতায় ইতোমধ্যে সারা দেশে ১৩টি প্রকল্পে এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে।  বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র মসজিদটির ইসলামি স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের পুনরুদ্ধার, একটি স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেবে। 
ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউএম