অনলাইনে ভুয়া পরিচয়পত্র বিক্রির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদলতে অভিযুক্ত বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি জালিয়াতির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এই ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভূক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা জেলা আদালত। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাহিদ হাসান (২৯)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয় নিশ্চিত করেছেন মন্টানা জেলার ইউএস অ্যাটর্নি কার্ট অ্যালমে।
২১ ডিসেম্বর, রবিবার এক বার্তায় এফবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অনলাইনে একটি অবৈধ মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছিলেন। সেখানে মার্কিন নথিপত্রের নিখুঁত ডিজিটাল টেমপ্লেট বিক্রি করা হতো যা ব্যবহার করে যে কেউ ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারতো।
জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ছয়টি ভুয়া পরিচয়পত্র হস্তান্তর, দুটি ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার এবং একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রের ১ থেকে ৮ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ১৫ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। ৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল সিকিউরিটি জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক মুক্তির শাস্তিও হতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়, ক্রেতারা বিটকয়েনসহ ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করে এসব টেমপ্লেট কিনতেন। তালিকাভুক্ত দামের মধ্যে ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট টেমপ্লেট প্রায় ১২ ডলার, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড ৯.৩৭ ডলার এবং মন্টানা ড্রাইভিং লাইসেন্স ১৪.০৫ ডলার। চার বছরের কার্যক্রমে TechTreek-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ১,৪০০-এর বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ মে মন্টানার বোজম্যান শহরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিটকয়েন গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং মন্টানা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুয়া টেমপ্লেট হস্তান্তর বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জাহিদ হাসান পরিচালিত তিনটি ডোমেইন জব্দ করেছে—www.techtreek.com, www.egiftcardstorebd.com এবং www.idtempl.com। বর্তমানে এসব সাইটে জব্দের নোটিস প্রদর্শিত হচ্ছে।
জব্দ হওয়া ওয়েবসাইটগুলোতে এখন এফবিআই, মার্কিন বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশের সিটিটিসির লোগো সম্বলিত নোটিশ দেখা যাচ্ছে। মন্টানা অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের আইনি পরোয়ানা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ১৮ ইউ.এস.সি ধারার অধীনে ডোমেইনগুলো জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত এবং গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি বেঞ্জামিন হারগ্রোভ। তদন্তে এফবিআইয়ের বিলিংস ডিভিশন ও সল্ট লেক সিটি সাইবার টাস্ক ফোর্স, এফবিআইয়ের আন্তর্জাতিক অপারেশনস ডিভিশন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সমন্বয়ে কাজ করেছে।
এই আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন ও ওয়েবসাইটগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিরুদ্ধে এটি বাংলাদেশ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি মাইলফলক যৌথ কার্যক্রম।
প্রসঙ্গত, অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত রায়ে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য থাকবেন।
ডিবিটেক/এফবিও/এমইউএম



