ফেসবুক পোস্টেই আয় ৩ হাজার ডলার
ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে “ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক” নামে আয়মুখী বিশেষ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে ফেসবুকের মালিকানাধীন মেটা। ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও টিকটকের দাপটে ফেসবুককে আয়মুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরিতে এই প্রোগ্রামের অধীনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারবেন কন্টেন্ট নির্মাতারা।
১৮ মার্চ মেটা’র এক প্রেস নোটে ফেসবুকে যোগ্য রিলস শেয়ার করার মাধ্যমে তিন মাসের জন্য এই আয়ের গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে নির্বাচিত ক্রিয়েটরদেরর। এতে বলা হয়- যাদের অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবে, তারা মাসে সর্বোচ্চ ১,০০০ ডলার আয় করতে পারবেন। আর যাদের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি, তারা মাসে সর্বোচ্চ ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা শুরু থেকেই ফেসবুকের কনটেন্ট মনিটাইজেশন টুলস ব্যবহার করতে পারবেন। তিন মাসের পরেও তারা যোগ্য পোস্ট থেকে আয় চালিয়ে যেতে পারবেন।
বর্তমানে এই প্রোগ্রাম শুধুমাত্র আমন্ত্রণভিত্তিক। তবে আগ্রহী ক্রিয়েটররা ফেসবুক মোবাইল অ্যাপের প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদন করতে পারবেন।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ফেসবুক ক্রিয়েটরদের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫% বেশি। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক পেআউট। পরিসংখ্যান বলছে, এই আয় শুধু ভিডিওতেই সীমাবদ্ধ নয়; রিলস, স্টোরিজ, ছবি ও টেক্সট পোস্ট থেকেও ক্রিয়েটররা আয় করতে পারেন। অবশ্য অভিজ্ঞতা বলছে, সংক্ষিপ্ত ভিডিওই সবচেয়ে বে শি আয় এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে মোট পেআউটের প্রায় ৬০% রিলস থেকে এসেছে, বাকিটা স্টোরিজ ও স্ট্যাটিক পোস্ট থেকে।
এদিকে ক্রিয়েটরদের আয়ের উৎস বুঝতে সহায়তা করতে ফেসবুকের মনিটাইজেশন সিস্টেমে নতুন সূচক যোগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: কোয়ালিফাইড ভিউ, আর্নিং রেট ও নন-কোয়ালিফায়েড ভিউ। এর মাধ্যমে ক্রিয়েটররা জানতে পারবেন কোন ভিউ আয় তৈরি করছে এবং কোনগুলো মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য নয়।
মেটার এই উদ্যোগকে অনেকেই ফেসবুকের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। এটি টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ফেসবুককে এগিয়ে নিতে পারে।
ফোর্বসের খবরে বলা হয়েছম ফেসবুকের বিশাল ব্যবহারকারী সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও অনেক জনপ্রিয় ক্রিয়েটর টিকটক ও ইউটিউবকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক মূলত সেই দ্বিধা কাটাতে নগদ অর্থের প্রলোভন দিচ্ছে। তিন মাসের গ্যারান্টিযুক্ত আয় ক্রিয়েটরদের ফেসবুকে কনটেন্ট শেয়ার করতে উৎসাহিত করবে।
আর দ্য নেক্সট ওয়েবের ভাষ্য, অতীতে ফেসবুকের ক্রিয়েটরদের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল ছিল। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রাথমিক নগদ প্রণোদনা শেষ হলে আয় টেকসই হবে কি না। কেননা, টিকটক ও ইউটিউব ইতিমধ্যেই ক্রিয়েটরদের জন্য শক্তিশালী আয়ের কাঠামো তৈরি করেছে। আর রিলসের বাইরে স্টোরিজ, ছবি ও টেক্সট পোস্ট থেকেও আয় সম্ভব হলেও, মূল ফোকাস এখনো ভিডিওতে সীমাবদ্ধ। তাই ফেসবুককে দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় থাকতে হলে ধারাবাহিকভাবে প্রণোদনা ও টুলস উন্নত করতে হবে।
মেটার এই উদ্যোগকে অনেকেই “ক্যাশ ফর কনটেন্ট” কৌশল হিসেবে দেখছেন। এটি স্বল্পমেয়াদে ক্রিয়েটরদের আকর্ষণ করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ফেসবুককে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের প্ল্যাটফর্মে দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং আয় করা টেকসই।
বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিকভাবে, ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক ফেসবুকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ক্রিয়েটর অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা। তবে সফল হতে হলে শুধু নগদ প্রণোদনা নয়, বরং ক্রিয়েটরদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। সফল হতে হলে শুধু নগদ প্রণোদনা নয়, বরং ক্রিয়েটরদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
ডিবিটেক/এনএ/এমইউএ



