নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি আদায়

নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি আদায়
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:১৬  

আধুনিক স্থাপত্যশৈলী আর সরকারি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অন্ধকার বাস্তবতা। প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত দেড় মাস ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। ফলে পবিত্র রমজান মাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে অন্ধকারে তারাবি নামাজ আদায় করতে হচ্ছে মুসল্লিদের। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের পর থেকে গত ৩৫ মাসে একবারও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি মসজিদ কর্তৃপক্ষ। বিউবো-এর আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন জানান, এটি একটি এসটি (High Tension) লাইন। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ বাবদই ১৫ হাজার টাকার বেশি বিল আসে। বিশাল এই মসজিদে অসংখ্য লাইট, ফ্যান ও এসি থাকায় মাসিক বিল দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বকেয়া পরিশোধের কোনো উদ্যোগ না দেখে গত ৬ জানুয়ারি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই মডেল মসজিদগুলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হলেও এগুলোর স্থাপত্য নকশায় ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ বা সোলার প্যানেল ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে. বিশাল ছাদ থাকা সত্ত্বেও সোলার সিস্টেম না থাকায় মসজিদটি পুরোপুরি গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। দিনের বেলা লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র বা ট্রেনিং সেন্টারে প্রাকৃতিক আলো ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলাফলস্বরূপ, সরকারি বরাদ্দহীন এই বিশাল স্থাপনার বিদ্যুত খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে মাত্র ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সরকার বহন করে, যার পরিমাণ মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। বাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ মুসল্লিদের দান থেকে সংগ্রহের কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজওয়ানা আফরিন জানান, মসজিদটি উপজেলা শহর থেকে দূরে হওয়ায় এবং হস্তান্তরের পর বিল পরিশোধের সুনির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।

তবে রমজানের মতো পবিত্র মাসেও অন্ধকারে নামাজ পড়তে হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদটির দাতা সদস্য পান্না জানান, "তৃতীয় রমজান পর্যন্ত আমরা অন্ধকারেই নামাজ পড়ছি। এলাকার যুব সমাজ এখন নিজেদের উদ্যোগে একটি প্রিপেইড মিটার আনার চেষ্টা করছে।"

বিদ্যুৎ বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধ না করলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে মডেল মসজিদগুলোতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা যুক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিবিটেক/ডিপিও/ইকে