চট্টগ্রামে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত ১২ জনের মধ্যে ৪ জনের অস্ত্রপচার

চট্টগ্রামে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত ১২ জনের মধ্যে ৪ জনের অস্ত্রপচার
১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২  

স্তন ক্যান্সার সচেতনতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহায়তায় সাড়ে ৭০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট র্সাজন একাডেমিয়া (পিজিএস) তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এ সময়ে বেসরকারি হাসপাতালটি ৪৫১ নারীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে এবং এদের মধ্যে ১২ জনের মধ্যে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। এ নারীদের মধ্যে চারজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান,স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা বাড়াতে মাসব্যাপি এ আয়োজন করে বেসরকারি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং স্নাতকোত্তর সার্জিক্যাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিজিএস একাডেমিয়া। এতে সহযোগীতা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। 

 চসিক মেয়র বলেন, বিশ্বে প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে নিরাময়ের হার ৯৫ থেকে শতভাগ। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা রক্ষণশীল হওয়ার কারণে অধিকাংশ নারীই তাদের স্তনের সমস্যা কাউকে জানান দিতে চান না। পুরো সমাজকে এ জন্য সচেতনতার আওতায় আনতে হবে।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার বিষয়ে সকলকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগটি শরীরের আর কোনো অঙ্গে ছড়িয়েছে কি-না। দেরীতে বা শেষ পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত হলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাছাড়া ঝুঁকি এবং চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা কিংবা নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য পুরুষদেরও এক্ষেত্রে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার বিষয়ে সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পিজিএস একাডেমিয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এ কে আজাদ বলেন, চট্টগ্রামে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না থাকলেও এ সময়ে ৪৫১ জনকে দেখে ১২ জনের শনাক্ত হওয়া উদ্বেগের বিষয়। সিএসসিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের অভিজ্ঞ শল্য চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ৫০ শতাংশ ছাড়ে গুরুত্বপূর্ণ রোগ নিরূপণের পরীক্ষা করানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএসসিআর এর চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, অধ্যাপক মো. মনজুরুল ইসলাম. ডা. এস এম তারেক, ডা. একরামুল হক, ডা. কাজী আইনুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাকেরা বেগম, সহকারী অধ্যাপক সায়েরা বানু শিউলী।