নিহত ১; আহত অনেক, উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট

উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত
২১ জুলাই, ২০২৫ ১২:৩৮  
২১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৩৫  

রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট। শেষ খবর পর্যন্ত একজনের লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি পুড়ে গুরুতর আহত  ২৭ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। 

২১ জুলাই, সোমবার  দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। পরে এটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)। 

দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, বিমান দুর্ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ চলমান আছে। 

 ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানে হয়েছে উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

জানা গেছে, মাইলস্টোন কলেজ সংলগ্ন মাঠে ‘এফ-৭ বিজিআই’ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটির পাইলট ছিলেন মোঃ তৌকির ইসলাম। এ সময় স্কুল শাখায় প্রথম শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলমান ছিল। সেখানে অনন্তত ১৬০ জন শিক্ষার্থী ছিলো। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমানটি ভেঙে পড়লে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন অভিভাবকরাও।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৭ জনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। এদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

আহত চারজনকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে। আহত অন্যদের নিকটস্থ বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমল কান্তি নাথ জানান, তাদের হাসপাতালে বহু আহতকে আনা হয়েছে। যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এমন অন্তত ৩০-৩৫ জনকে বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়েছে। কম গুরুতরদের ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে। যারা আসছেন, তাদের সবার শরীরেই পোড়ার চিহ্ন রয়েছে।

দুর্ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ আতঙ্কিত লোকজন ছোটাছুটি করছে। এছাড়া দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। কিছু লোকজন উদ্ধারকাজে সহায়তা করলেও ভিড় বেশি হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যদের স্বাভাবিক তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে শোকাবহ পরিস্থিতি।ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কিছু মর্মান্তিক ছবি ও ভিডিও, যেখানে দেখা যায় দগ্ধ শিশু, আতঙ্কিত অভিভাবক, পোড়া ইউনিফর্মে ছোটাছুটি করা শিক্ষার্থীরা। সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে শোকাবহ পরিস্থিতি।