এক্সপ্রেস গ্রিডে যুক্ত হবে জাতীয় ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার

২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০১:০২  

২০১৮ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত দেশের জাতীয় টায়ার ফোর ডাটা সেন্টার (বিডিসিসিএল)। তবে ছয় বসরের মাথায় অকল্পনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়ে ১৬০০ কোটি টাকায় বানানো দেশের জাতীয় এই তথ্য ভাণ্ডারটি। পল্লী বিদ্যুৎতের তেলেসমাতিতে কোনো ব্যাকআপই কাজ করেনি গত গত ২৩ জুন। আধাঘণ্টার মতো ছিলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। যার জের টানতে হয়েছে একপক্ষের মতো। ডাটা সেন্টারটির ব্যাকআপ ব্যবস্থার অকেজো অবস্থা ছিলো খোদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে অগোচরে।

ডাটা সেন্টারটির সুন্দর ও সুরক্ষিত অবকাঠামোর ভেতরে যে এতোটা ফাঁপা অবস্থা তা হয়তো বুঝতেই পারেননি নতুন দায়িত্ব নেয়া ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কামরুন্নাহার সিদ্দিকা। আর দেশের ডি-নথির গতি স্লোথ হওয়ার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিষয়টি অনুধাবন করেন অ্যাকসেস টু ইনোভেট প্রকল্প পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদ। বিষয়টি নিয়ে বিডিসিসিএল-কে চিঠি লেখার পর সমস্যার সমাধান করেছেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

তবে এখানেই থেমে না থেকে বিডিসিসিএল এর ‘নিরাপদ তথ্য সেবা’র প্রত্যয়ের সঙ্গে ‘নিরবচ্ছিন্ন সেবা’ বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যেনো আর ডাটা সেন্টারটি কখনোই আর অন্ধকারে ঘুমিয়ে না যায় সেজন্য এটিকে ‘এক্সপ্রেস গ্রিড লাইনে’ যুক্ত করতে বিদ্যুত বিভাগ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ সেরে ফেলেছেন বিডিসিসিএল চেয়ারম্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়ে বিডিসিএল শাটডাউন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডাটাসেন্টারটিকে সরাসরি গ্রিডে যুক্ত করতে এক্সপ্রেস গ্রিড লাইন স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ডিজিবাংলাটেক প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি বিডিসিসিএল বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ২০০ ব্যাটারিও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে যেহেতু পল্লী বিদ্যুতের ওপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না এ জন্য ডাটা সেন্টারের জন্য এক্সপ্রেস গ্রিড লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লাইন স্থাপনের বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। যেহেতু ঢাকা থেকে দূরে তাই লাইনটি স্থাপনে একটু সময় লাগবে।

এমন পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করার সঙ্গে আইসিটি সচিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা। ডিজিবাংলাটেক ডট নিউজকে তিনি বলেছেন, ধন্যবাদ, বিডিসিএল বিদ্যুৎব্যাকাপের ব্যাটারি এবং অন্যান্য কিছু জিনিসপত্র প্রতিস্থাপন করেছে। বিদ্যুত বিভ্রাটে ডাটাসেন্টার বন্ধ হওয়ায় আমরা আমাদের উদ্বেগ উত্থাপন করেছিলাম। একইসঙ্গে তাদের কাছে টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুত সংযোগের কোনো কৌশলই কাজ করেনি দেশের ফোর টায়ারের জাতীয় ডাটা সেন্টারটি। ওই দিন ভোর ৫টা ৮ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত শাটডাউন হয়ে পড়েছিলো ডাটা সেন্টারটি। আধাঘণ্টার মতো পুরো সিস্টেম ছিলো শীতল ঘুমে। এর প্রভাবে ওই দিন প্রায় অকার্যকরই ছিল ডি-নথি সিস্টেম। এর কয়েকদিন পরও ব্যাহত হয় ডি-নথির কার্যক্রম। কেননা, সরকারের ৩৪ হাজার দফতরের ডাটা ও সরকারের নথি ব্যবস্থাপনার সব ডাটাসহ যাবতীয় সরকারি ডাটা বিডিসিসিএল-এ ব্যাকআপ থাকে। প্রতিদিন সরকারের ১৩ হাজারের বেশি অফিস ডি-নথি সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালায়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটার নিরাপত্তা ও ডাটা হারিয়ে যাওয়ার আশংকায় ২৫ জুন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা বিডিসিসিএলকে চিঠি দেন।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ডাটা সেন্টারের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডি-নথি সিস্টেমসহ অন্যান্য সকল সিস্টেমের প্রয়োজনীয় সার্ভিস ব্যাহত হয়। কিছু সিস্টেম পুনরায় চালু হলেও সব সার্ভিস পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। আর নেটিভ ক্লাউডে থাকা স্টোরেজ সার্ভিসও চালু না হওয়ায় বেশ কিছু অফিস ডি-নথি সিস্টেম ব্যবহারই করতে পারছে না।’

চিঠিতে এই ত্রুটির দ্রুত সমাধান, ডাটার নিরাপত্তার নিয়শ্চয়তা এবং ডাটা হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এ নিয়ে মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেছেন, ‘আমরা বারবারই বলেছি যে, ডাটার সুরক্ষায় আমরা শুধু চিঠি বা নোটিশ করে থেমে থাকিনি আমরা মিটিংও করেছি যে কীভাবে ডাটা সুরক্ষায় সর্বোচ্চটা করা যায়। এখন এসব বিষয়ে  ডাটা সেন্টারের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

 এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিডিসিসিএলের ডিরেক্টর কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জামান, বুয়েটের অধ্যাপক ও বিডিসিসিএলের ডিরেক্টর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান এবং বিডিসিসিএলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর খালিদ ইবনাল আসাদকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটি প্রতিবেদনে জানায়, এই দুর্ঘটনায় কোনো ডাটা হারিয়ে যায়নি (লস)। তাই হয়তো এমন একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুত গেলে সিস্টেম যথারীতি মুহূর্তেই সেকেন্ডারি পাওয়ার ব্যাকআপে ব্যাটারিতে চলার কথা। কিন্তু তেল বাঁচাতে ক্রিটিক্যাল অবকাঠামোর সেকেন্ডারি পাওয়ার ব্যাকআপ জেনারেটর অটোমেটেড না রেখে ম্যানুয়াল করে রাখা এবং দু’শতাধিক ব্যাটারির সবই এক্সপায়ার হয়ে যাওয়ায় জেনারেটর চলেনি। একইভাবে ব্যাটারির ক্ষমতা ৩০ মিনিট থাকার কথা থাকলেও তাও ২ মিনিটও সচল থাকেনি।

বিডিসিসিএলের ওই দুর্ঘটনায় করা তদন্ত কমিটির এক সদস্য খামখেয়ালীর কারণে এমনটা ঘটার কথা উল্লেখ করলেও সব ঘটনায় কাওকে দায়ী করা বা কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন। এস. এম. ইমদাদুল হক