৫ শতাংশ লভ্যাংশ দাবিতে জিপি হাউজের সামনে মানববন্ধন

৫ শতাংশ লভ্যাংশ দাবিতে জিপি হাউজের সামনে মানববন্ধন
২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:১৮  

শ্রমিকের লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ-ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিফিকেশন ফান্ড) ৫ শতাংশ বকেয়া আদায়ের দাবিতে ৫ ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুতকর্মীরা।

রাজধানীর বসুন্ধরায় গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যলয়ের সামনে ২ নভেম্বর, মঙ্গলবার  সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে প্রায় ৩ শতাধিক চাকরিচ্যুত ব্যক্তি অবস্থান গ্রহণ করে এই মানবন্ধন করেন।

এ সময় চাকরিচ্যুতদের পরিবারের সদস্যদেরও মানবন্ধনে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড দেখা যায়। এসময় হ্যান্ড মাইকে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানবন্ধনে অংশ নেয়া গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী আদিবা জেরিন চৌধুরী বলেন,  আমরা টানা এক বছর ধরে আন্দোলন করছি ১৫ বছরের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে। গ্রামীণফোন নীরব, প্রশাসনও নিশ্চুপ। আজকের মানববন্ধন থেকে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ৩ জিরো ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই শ্রমিকের ন্যায় অধিকার ও বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করুন। 

মানববন্ধনে ছাটাইকৃতকর্মীরা বলেন, গ্রামীণ ফোনের ব্যবসার প্রসার ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০১৩ সাল থেকে অব্যাহতভাবে কর্মী ছাঁটাই করা হয়। উচ্চ আদালতে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন না করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও সরকারের প্রতি অসম্মানজনক ও ন্যক্কারজনক। গ্রামীণফোনের এই বেআইনি ছাঁটাই, অবৈধ লক-আউট ও অসৎ শ্রম আচরণসহ সকল অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বেআইনি ছাঁটাইয়ের শিকারদের তাদের ৫ শতাংশ পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।

গ্রামীণফোনের ছাঁটাইকৃত কর্মীদের আন্দোলনের সমন্বয়কারী আবু সাদাত মো. শোয়েব বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে আগেই। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণফোন থেকে অন্যায়ভাবে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। কোম্পানির লাভের ৫ শতাংশ পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক কর্মীরা ১৫ বছর ধরে আমাদের আইনগত ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ ও ডব্লিউডব্লিউএফ বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে শ্রম মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে শান্তিপূর্ণ লড়াই করে আসছি। গ্রামীণফোন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দমন করার চেষ্টা করছে। আমাদের এই লড়াইয়ের সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৩৬০টি পরিবার ও হাজারো শ্রমিকের বহু বছরের বঞ্চনা জড়িয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের পাওয়া না দেয়, আর সরকার যদি তাদের আশ্রয় দেয়, তাহলে সরকারকেও পেটাতে পেটাতে রাস্তায় নামানো হবে। আমরা মস্তিষ্ক দিয়ে পেটাই, হাত দিয়ে না। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার না, অন্তর্বর্তী সরকার তা চিনি না। আমরা শুধু জানি, যারা আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

চাকরিচ্যুত গ্রামীণফোনের নারী কর্মী সুমি বলেন, আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু তারা তামাশা করেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারা যদি আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে না দেয়, এই কোম্পানির চিহ্ন এ দেশে থাকবে না।
ডিবিটেক/এডি/ইকে