বিএমইটির ‘সার্ভার জটিলতা’ কাটায় স্বস্তিতে অভিবাসন প্রত্যাশীরা

বিএমইটির ‘সার্ভার জটিলতা’ কাটায় স্বস্তিতে  অভিবাসন প্রত্যাশীরা
২৫ জুন, ২০২৫ ১২:২১  
২৫ জুন, ২০২৫ ১৩:২২  

সাবস্টেশনে কাজ করতে গিয়ে ব্যাক আপ না থাকা এবং নেটওয়ার্ক সুইচ বদলাতে গিয়ে চার দিনের মতো বন্ধ ছিলো জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডেটাবেইজ সার্ভার। তবে ২৩ জুন, মঙ্গলবার রাত থেকে ফের সচল হয়েছে সার্ভারটি। ২৪ জুন, বুধবার থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করা এবং প্রশিক্ষণ শেষ করার পর প্রি-ডিপার্চার সার্টিফিকেট (পিডিও) সংগ্রহ করতে পারছেন বিদেশে গমনেচ্ছু ব্যক্তিরা। 

এরা গত বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা দেয়ার পর রাতেই ওয়েবসাইট থেকে সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সারা দেশের শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মী। তখন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএমইটির সংশ্লিষ্ট সার্ভার জটিলতায় কেউই তুলতে পারছেন না সার্টিফিকেট। এমনকি বিএমইটি জেলা কার্যালয়গুলোতে গিয়েও সার্টিফিকেট না পাওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর না পাওয়ার বেশ কিছু অভিযোগ আসে ডিজিটবাংলাটেকডটনিউজের হাতে।   

বিএমইটির সার্ভার জটিলতায় ভোগান্তিতে পড়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ার জাহিদ হাসান (নাম দিতে চান না, যদি ভবিষ্যতে তার কোনো সমস্যা হয় সে কারণে, তাই অনুরোধ ছদ্মনাম ব্যবহারের) অভিযোগ করেন গত বৃহস্পতিবার তিনি ট্রেনিং শেষ করলে বিএমইটি অফিস থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যার পর যে কোনো কম্পিউটারের দোকান থেকে পিডিও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে। কিন্তু দোকানে গিয়ে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারেননি সার্ভার ডাউন থাকায়। 

জাহিদ হাসান বলেন, ‘ট্রেনিং শেষ করে বসে আছি কয়েকদিন। সার্টিফিকেট না পেলে আমি অন্য কাজ করতে পারছি না। সোমবার বিএমইটি জেলা কার্যালয়ে গেলে তারা কবে সাইট ঠিক হবে জানাতে পারেননি। সেখান থেকে বলা হয়েছে, সাইট যখন ঠিক হবে তখন সার্টিফিকেট পাবেন। এমন অনিশ্চিয়তায় কতদিন থাকব।’

একসঙ্গে তারা অন্তত একশ জন ট্রেনিং করেছেন। তারা কেউই এখনও সার্টিফিকেট পাননি। এমন ভোগান্তিতে পড়বেন সেটা কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।

তার মতো ভোগান্তিতে পড়া শরীয়তপুরের সোহেল মিয়ার ছোট ভাই হাসান আলীও একই অভিযোগ করেন। ট্রেনিং করার পর পাননি পিডিও সার্টিফিকেট। সোহেল মিয়া জানান, ছোট ভাই ট্রেনিং করেছে কিন্তু সার্টিফিকেট পাচ্ছে না। তার সঙ্গের কয়েকজন সার্টিফিকেট পেলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কেউই পাচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ‘হাসান এখন মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। তার ভিসাও রেডি। সার্টিফিকেট না পেলে ফ্লাইটের টিকিট করতে পারবে না। কিন্তু তার ভোগান্তির কথা কেউ শুনছে না। কবে সাইট ঠিক হবে এটাও কেউ সঠিক বলতে পারছেন না।’ 

তারা ছাড়া আরও অনেকেই তাদের সার্টিফিকেট না পাওয়ার ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  সাধারণত, পিডিও প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার দিনেই সার্টিফিকেট পেয়ে থাকেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

এ বিষয়ে ডিজিবাংলা’র পক্ষ থেকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আকরাম আলী’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, সার্ভার কাজ শুরু করলেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে আগের মতোই। সে সময় পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ২৪ জুনের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।     

তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাত আটটার পরে ফের সচল হয়েছে বিএমআইটি’র সার্ভার। সকালেই ডিজিবাংলা প্রতিবেদককে ফোন করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। 

কিন্তু কেন সার্ভার বন্ধ ছিলো বিষয়টি জানতে চাইলে বিএমইটি ইনস্ট্রাক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম মামুন জানান, তাদের কম্পাউন্ডের সাব স্টেশনের কাজ করার সময় পাওয়ার ব্যাকআপ না থাকায় সার্ভার বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। রবিবার এটা চালাতে গিয়ে দেখা যায় নেটওয়ার্ক সুইচ নষ্ট হয়েছে। ফলে সোমবার সার্ভার পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এটি সারার পর মঙ্গলবার থেকে এটি চালু হয়েছে। আগামীতে যেন ২৪ ঘণ্টাই এটা চালু থাকে সেজন্য আগাম সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছে।