স্টারলিংকের আয়ের সিংহভাগ খরচ এআইয়ে

স্টারলিংকের আয়ের সিংহভাগ খরচ এআইয়ে
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৭  

ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স এখন আর কেবল রকেট বা স্যাটেলাইট কোম্পানি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এআই-ফার্স্ট’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পথে হাঁটছে। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ যে পরিমাণ অর্থ আয় করছে, তার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রকল্পে।

স্টারলিংকের লাভ বনাম এআই-এর লোকসান
স্পেসএক্সের আসন্ন আইপিও সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছর স্টারলিংকের পরিচালনা আয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪২ বিলিয়ন ডলারে। স্টারলিংকের এই বিশাল মুনাফা কোম্পানির মহাকাশ গবেষণা ও রকেট তৈরির খরচ মেটাতে সক্ষম হলেও, এআই বিভাগের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

২০২৫ সালে স্পেসএক্সের মোট মূলধনী ব্যয়ের ৬১ শতাংশই ব্যয় হয়েছে এআই বিভাগে, যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭৪ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে এআই বিভাগ ৬.৪ বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনেছে।

বিগ টেকের সঙ্গে অসম লড়াই
গুগল, মাইক্রোসফট বা মেটার মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলো যখন এআই-তে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, তখন তাদের হাতে রয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মতো শক্তিশালী আয়ের উৎস। কিন্তু স্পেসএক্সের আয়ের মূল উৎস কেবল রকেট উৎক্ষেপণ এবং স্টারলিংকের সাবস্ক্রিপশন। ফলে আর্থিক শক্তির দিক থেকে স্পেসএক্সকে এখন একটি ‘সুপার-সাইজড স্টার্টআপ’ বা অতিকায় স্টার্টআপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মহাকাশে ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা
ইলন মাস্কের পরিকল্পনা কেবল পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি মহাকাশে ১০ লাখ স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করছেন। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এআই থেকে প্রত্যাশিত আয় দ্রুত শুরু না হয়, তবে আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে স্পেসএক্স মাত্র কয়েক বছর টিকে থাকতে পারবে।

আইপিও ও কার্সর ডিল
স্পেসএক্স বর্তমানে ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সম্প্রতি এআই কোড-জেনারেশন স্টার্টআপ ‘কার্সর’-এর সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্পেসএক্সের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে:

  •     ৬০ বিলিয়ন ডলারে কার্সর কিনে নেওয়া: এটি করলে নগদ অর্থের ওপর বড় চাপ তৈরি হবে।
  •     ১০ বিলিয়ন ডলারে সহযোগিতা চুক্তি: এটি করলে ঝুঁকি কমলেও কার্সরের বিশাল গ্রাহক তালিকা হাতছাড়া হবে।

স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তাদের এআই প্রকল্প কত দ্রুত লাভজনক হতে পারে তার ওপর। স্টারলিংকের গ্রাহক বৃদ্ধি যদি ধীর হয়ে যায় এবং এআই-তে খরচ বাড়তে থাকে, তবে ইলন মাস্কের এই স্বপ্ন বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: রয়টার্স